যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ব্রাজিল। সাম্প্রতিক পণ্য আমদানিতে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে ব্রাজিল দেশটির সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই)।
এর আগে গত ২২ জুলাই ব্রাজিলের বেশ কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এর সঙ্গে পরে জোরপূর্বক শ্রম-সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আরও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক যুক্ত করা হয়।
এর জবাবে ব্রাজিল ‘ইকোনমিক রেসিপ্রোসিটি ল’ বা অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের আওতায় কূটনৈতিক আলোচনা এবং সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে।
২০২৫ সালে কংগ্রেসে সর্বসম্মতভাবে অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। আইনটি এমন দেশ বা অর্থনৈতিক জোটের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়, যারা ব্রাজিলের স্বার্থকে প্রভাবিত করে এমন বাণিজ্যিক, আইনি বা রাজনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপ করে।
এক বিবৃতিতে ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া পদক্ষেপগুলো অর্থনৈতিক পারস্পরিকতা আইনের আওতায় পড়ে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নেওয়া একতরফা পদক্ষেপও এই পর্যালোচনার অংশ।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে এবং কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে। এসব আলোচনায় মার্কিন পদক্ষেপের প্রভাব কমানোর উপায় এবং আইনটির আওতায় সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
তবে ব্রাসিলিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ ও আলোচনাই তাদের অগ্রাধিকার। এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)-এর সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল ব্রাজিল। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য বাণিজ্যচর্চা সংক্রান্ত অভিযোগের বিরোধিতা করে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছিল দেশটি।
এদিকে মার্কিন আরোপিত শুল্ককে অন্যায্য ও স্বেচ্ছাচারী বলে অভিহিত করেছে ব্রাজিল সরকার। একই সঙ্গে দেশটির স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব আইনি ও কূটনৈতিক পথ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















