ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একই দিনে সূর্যগ্রহণ ও পারসিড উল্কাবৃষ্টি

চলতি সপ্তাহে এক বিরল মহাজাগতিক বিস্ময় উপভোগ করতে যাচ্ছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আকাশপ্রেমীরা। একদিকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, অন্যদিকে আকাশজুড়ে পারসিড উল্কাবৃষ্টির চোখধাঁধানো আলোর খেলা—এই দুইয়ের যুগলবন্দী এক অসাধারণ দৃশ্যের জন্ম দিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে এই উল্কাবৃষ্টি চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিট।

নাসা ও আর্থস্কাইয়ের তথ্যমতে, বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধ থেকে এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। মজার বিষয় হলো, ঠিক একই সময়ে বুধবার উত্তর গোলার্ধের কিছু অংশে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণও ঘটবে। আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও পর্তুগালের মতো জায়গাগুলোতে সম্পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কিছু অংশে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির মতে, সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টির চরম পর্যায় একসঙ্গে ঘটার এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সূর্যগ্রহণের সময় নতুন চাঁদ বা অমাবস্যা থাকায় চাঁদের আলো উল্কা দেখায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। অন্ধকার আকাশে দ্রুতগামী এই জ্বলন্ত উল্কা বা ‘ফায়ারবল’গুলো রঙিন ধোঁয়ার রেখা তৈরি করবে। মেঘমুক্ত গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০টি এবং শহরে ১৫ থেকে ২৫টি উল্কা চোখে পড়তে পারে।

পারসিড উল্কার মূল উৎস হলো ‘১০৯পি/সুইফট-টাটল’ নামক ধূমকেতু, যা প্রতি ১৩৩ বছরে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। গত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ এই দৃশ্য দেখে আসছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. শ্যানন স্মল জানান, সৌরজগতের সৃষ্টির এসব অবশিষ্টাংশ নিয়ে গবেষণা আমাদের মহাকাশ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের এই বিশালতায় আমরা একা নই।

বর্তমানে আরও দুটি উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকলেও, বছরের শেষদিকে অরিয়নিডস, লিওনিডস ও জেমিনিডসের মতো আরও কয়েকটি উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ মিলবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

একই দিনে সূর্যগ্রহণ ও পারসিড উল্কাবৃষ্টি

আপডেট সময় ১২:৫৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চলতি সপ্তাহে এক বিরল মহাজাগতিক বিস্ময় উপভোগ করতে যাচ্ছেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আকাশপ্রেমীরা। একদিকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, অন্যদিকে আকাশজুড়ে পারসিড উল্কাবৃষ্টির চোখধাঁধানো আলোর খেলা—এই দুইয়ের যুগলবন্দী এক অসাধারণ দৃশ্যের জন্ম দিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টা ৫৩ মিনিটে এই উল্কাবৃষ্টি চূড়ান্ত বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৩ মিনিট।

নাসা ও আর্থস্কাইয়ের তথ্যমতে, বুধবার রাত থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত উত্তর গোলার্ধ থেকে এই উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে। মজার বিষয় হলো, ঠিক একই সময়ে বুধবার উত্তর গোলার্ধের কিছু অংশে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণও ঘটবে। আইসল্যান্ড, উত্তর স্পেন ও পর্তুগালের মতো জায়গাগুলোতে সম্পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গেলেও, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কিছু অংশে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে।

আমেরিকান মিটিওর সোসাইটির মতে, সূর্যগ্রহণ ও উল্কাবৃষ্টির চরম পর্যায় একসঙ্গে ঘটার এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। সূর্যগ্রহণের সময় নতুন চাঁদ বা অমাবস্যা থাকায় চাঁদের আলো উল্কা দেখায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। অন্ধকার আকাশে দ্রুতগামী এই জ্বলন্ত উল্কা বা ‘ফায়ারবল’গুলো রঙিন ধোঁয়ার রেখা তৈরি করবে। মেঘমুক্ত গ্রামীণ এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০টি এবং শহরে ১৫ থেকে ২৫টি উল্কা চোখে পড়তে পারে।

পারসিড উল্কার মূল উৎস হলো ‘১০৯পি/সুইফট-টাটল’ নামক ধূমকেতু, যা প্রতি ১৩৩ বছরে সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করে। গত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে মানুষ এই দৃশ্য দেখে আসছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির ড. শ্যানন স্মল জানান, সৌরজগতের সৃষ্টির এসব অবশিষ্টাংশ নিয়ে গবেষণা আমাদের মহাকাশ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে সাহায্য করে। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের এই বিশালতায় আমরা একা নই।

বর্তমানে আরও দুটি উল্কাবৃষ্টি সক্রিয় থাকলেও, বছরের শেষদিকে অরিয়নিডস, লিওনিডস ও জেমিনিডসের মতো আরও কয়েকটি উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ মিলবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস