ঢাকা ০২:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে গেল শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী জলযান

লোনাজলে দাপিয়ে বেড়ানো সুুন্দরবনের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ ‘এম এল বনরানী’ ও ‘এম এল বনকন্যা’। ব্রিটিশ আমলের রাজকীয় স্মৃতি আর বার্মিজ সেগুন কাঠের অনবদ্য কারুকার্য নিয়ে তৈরি এই জলযানে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ব্রিটেনের রানিসহ বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধানসহ অনেক ভিভিআইপি। সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে নৌযান দুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত না করে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকলেও লঞ্চ দুটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। ঐতিহ্য ধরে না রেখে বিক্রি করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বৃহত্তর সুন্দরবনের বন কর্মকর্তাদের জন্য ১৯০২ সালে ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল এম এল বনকন্যা ও ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় নির্মাণ হয় এম এল বনরানী। ১৯৬২ সালে স্টিম ইঞ্জিনের পরিবর্তে দুটি লঞ্চেই ডিজেল ইঞ্জিন এবং ২০০৪ সালে দাইও ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়। এদের মধ্যে বনরানীকে ২০১৬ সালে শেষ বারের মতো চালানো হয়েছিল। ঐতিহাসিক জলযান দুটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে পুরোপুরি অচল হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। এদের সচল করতে ৭ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন চেয়েছিল সুন্দরবন বিভাগ। ২০১৮ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড ওই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বন মন্ত্রণালয়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুটি লঞ্চ গত মার্চে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। বনরানীকে ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ ও বনকন্যাকে ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, সুন্দরবন বিভাগের লঞ্চ বনরানী ও বনকন্যার একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। লঞ্চ দুটির স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে জানানোর লক্ষ্যে লঞ্চের রেপ্লিকা বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে রেপ্লিকা বানানোর কাজ শুরু করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

হারিয়ে গেল শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী জলযান

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

লোনাজলে দাপিয়ে বেড়ানো সুুন্দরবনের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ ‘এম এল বনরানী’ ও ‘এম এল বনকন্যা’। ব্রিটিশ আমলের রাজকীয় স্মৃতি আর বার্মিজ সেগুন কাঠের অনবদ্য কারুকার্য নিয়ে তৈরি এই জলযানে সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন ব্রিটেনের রানিসহ বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সরকারপ্রধানসহ অনেক ভিভিআইপি। সুন্দরবনের করমজল পর্যটনকেন্দ্রে নৌযান দুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত না করে ১০ বছরের অধিক সময় ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য থাকলেও লঞ্চ দুটি নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। ঐতিহ্য ধরে না রেখে বিক্রি করায় সচেতন মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সুন্দরবন বিভাগ জানায়, বৃহত্তর সুন্দরবনের বন কর্মকর্তাদের জন্য ১৯০২ সালে ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছিল এম এল বনকন্যা ও ১৯০৮ সালে ৫২ হাজার ৯৪৭ টাকায় নির্মাণ হয় এম এল বনরানী। ১৯৬২ সালে স্টিম ইঞ্জিনের পরিবর্তে দুটি লঞ্চেই ডিজেল ইঞ্জিন এবং ২০০৪ সালে দাইও ইঞ্জিন স্থাপন করা হয়। এদের মধ্যে বনরানীকে ২০১৬ সালে শেষ বারের মতো চালানো হয়েছিল। ঐতিহাসিক জলযান দুটি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে পুরোপুরি অচল হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। এদের সচল করতে ৭ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন চেয়েছিল সুন্দরবন বিভাগ। ২০১৮ সালে খুলনা শিপইয়ার্ড ওই প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বন মন্ত্রণালয়।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুটি লঞ্চ গত মার্চে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। বনরানীকে ২৬ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ ও বনকন্যাকে ২০ লাখ ২৭ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, সুন্দরবন বিভাগের লঞ্চ বনরানী ও বনকন্যার একটি ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে। লঞ্চ দুটির স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে জানানোর লক্ষ্যে লঞ্চের রেপ্লিকা বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে রেপ্লিকা বানানোর কাজ শুরু করা হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস