পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের জাজিরায় পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবার বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এতে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।
কয়েক বছরের পদ্মার ভাঙনের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ও পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের নদীপাড়ের মানুষ। ওই সময় দুই ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় শত শত পরিবার বসতভিটা, আবাদি জমি, গাছপালা ও জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অনেক পরিবার এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এরই মধ্যে চলতি বর্ষায় পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে আবারও কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী জনপদে।
গতকাল শুক্রবার থেকে পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয় বলে জানান স্থানীয়রা। ভাঙন রোধে প্রায় এক হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। স্থানীয়দের আশা ছিল, বর্ষা শুরুর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশের কাজ শেষ হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কোথাও ধীরগতিতে কাজ চলছে, আবার কোথাও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শেষ হয়নি। ফলে পদ্মার বাড়তি স্রোতের মুখে অনেক স্থানই এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ভয়াবহ ভাঙনের পরও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। বর্ষার শুরুতেই পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কাথুরিয়া এলাকার কয়েকটি স্থানে নতুন করে ভাঙতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই সামান্য হলেও নদীতে বিলীন হচ্ছে জমি, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পালেরচরের বাসিন্দা আক্তার মাদবর বলেন, এ বছরও পদ্মা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। কাথুরিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন একটু একটু করে নদী ভাঙছে। আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিক, যাতে গত বছরের মতো আর কোনো পরিবার সর্বস্ব হারাতে না হয়।
পাউবো শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, প্রকল্পের একটি অংশের নকশা পরিবর্তন এবং প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের অনুমোদন পেতে মন্ত্রণালয়ে সময় লাগায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। জাজিরা উপজেলার নদীতীর রক্ষায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় এক হাজার ২০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের কাজ আগামী বছরের জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে চলতি বর্ষায় পদ্মার পানি ও স্রোত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগও বাড়ছে। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত কাজ শেষ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে প্রতি বছর নদীভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে না হয়।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী বলেন, গতকাল জুমার নামাজের আগে হঠাৎ করেই প্রায় ২০ ফুট জায়গা পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই এ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, “ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুকনা খাবারসহ তাৎক্ষণিকভাবে যতটুকু সহায়তা করা প্রয়োজন, আমরা তা করেছি। একই সঙ্গে বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে এবং ভাঙন রোধে তারা যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, সে বিষয়ে বলা হয়েছে।”
পাউবো শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পের একটি অংশের অনুমোদন পেতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ পিছিয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস























