ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই তেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দেশটির জ্বালানি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুদ কমে ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এক সপ্তাহে মজুদের পরিমাণ ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল কমে ৩০৪.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। একসময় দেশটির পেট্রোলিয়ামের জরুরি মজুদ ৭০০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি থাকলেও বর্তমানে তা কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবাজ নীতি অব্যাহত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই খেসারত দিতে হচ্ছে। ৪৩ বছরের মধ্যে কৌশলগত মজুদ সবচেয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় দেশটিতে চরম তেলসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে ট্রেডস্টেশনের গ্লোবাল হেড অব মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভিড রাসেল মার্কেট ওয়াচকে ই-মেইলে পাঠানো এক মন্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জরুরি পেট্রোলিয়ামের মজুদ কমে যাওয়ায় হঠাৎ কোনো সরবরাহ ঘাটতি বা ভবিষ্যৎ সংকট সামাল দেওয়ার মতো বাড়তি সক্ষমতা এখন আর অবশিষ্ট নেই। যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে তীব্র অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে তখন এই পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে, মজুদ কমার এই নেতিবাচক চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর। পেট্রল পাম্পে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। প্রতিদিনের পেট্রলের দাম পর্যবেক্ষণকারী আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি গ্যালন (৩.৭৮ লিটার) পেট্রলের গড় মূল্য ৪.০৯ ডলার।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























