রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা প্রায় ২০ কোটি টাকার স্থাপনা, সীমানাপ্রাচীর, নলকূপ ও অন্যান্য অবকাঠামোর বড় অংশের কোনো হদিস মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাবে সেই ২০ কোটি টাকার নিলাম বাবদ জমা পড়েছে মাত্র ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ফলে প্রায় পুরো টাকার সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
তবে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক নজিবুর রহমান বলেন, ‘আমি আট মাস আগে যোগদান করেছি। আগের বিষয়গুলো সম্পর্কে আমার জানা নেই। অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে মূল্য দেওয়া হয়, বাস্তবে নিলামে সেই পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায় না। সে কারণেই প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্য নির্ধারিত স্থাপনা ২০ লাখ টাকায় বিক্রি হতে পারে। এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা।’
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণে জানা গেছে, ২০২৩ সালে নগরীর সিলিন্দা মৌজায় ৬৭ দশমিক ৬৭ একর জমি অধিগ্রহণ করে রামেবি। জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা পাকা, আধাপাকা ও টিনশেড ভবন, সীমানাপ্রাচীর, নলকূপ, গভীর নলকূপ, সাবমারসিবল পাম্প এবং গাছপালার জন্যও ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পরিশোধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অধিগ্রহণকৃত জমিতে দুটি তিনতলা, ছয়টি দোতলা, তিনটি একতলা এবং একটি নির্মাণাধীন দোতলা ভবনসহ মোট ১২টি পাকা ভবন ছিল। এ ছাড়া সাতটি আধাপাকা ও টিনশেড ঘর, একটি ইটের নির্মিত ‘মিষ্টির ঘর’, ছাদের ওপর তিনটি শেড, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩৬টি সীমানাপ্রাচীর, একাধিক নলকূপ, গভীর নলকূপ এবং ১০টি সাবমারসিবল পাম্প ছিল। বর্তমানে এসবের অধিকাংশের কোনো অস্তিত্ব নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছরের ৯ জুলাই একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই নিলামে একটি দোকানঘর, দুটি তিনতলা ভবন, দুটি একতলা ভবন এবং একটি দোতলা রেস্তোরাঁ ভবন বিক্রি করা হয়। পরে এনআরবিসি ব্যাংকের ১০টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরে মোট ২০ লাখ ৪১ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়।
এর বাইরে অধিগ্রহণকৃত বিপুল পরিমাণ স্থাপনার কোনো নিলাম বা বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের জুলাইয়ে নিলাম শুরু হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভবন ভাঙার কাজ দ্রুতগতিতে চলে। এ ছাড়া তারও আগে সীমানাপ্রাচীরের ইট খুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় শ্রমিকরা জানিয়েছিলেন, তারা অফিসের নির্দেশেই কাজ করছেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

























