ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অভিনয়ে ফিরতে চান, ভবিষ্যতে পরিচালনাতেও আগ্রহ মাইলি সাইরাসের Logo শতাধিক গ্রামে ভবদহের জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে লাখো মানুষ Logo ১ আগস্ট থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না হলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন Logo রাজধানীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি গুলি Logo ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসি নেতৃত্বাধীন কমিশনের বৈঠক চলছে Logo রূপগঞ্জের মানুষকে উচ্ছেদ করার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেব না : এমপি দিপু Logo নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলা, শিশুসহ নিহত ৩০ Logo দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড Logo কাউন্সিলর একরামুল হত্যা, সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ Logo হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

২৮ জুলাই ২০২৪: ডিবি দপ্তরের নাটক ও বুলেটে লেখা ইতিহাস

ইতিহাসের পাতায় ২৮ জুলাই কোনো সাধারণ তারিখ নয়। এদিন রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক চরম নাট্যমঞ্চ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের নিষ্ঠুরতম চেহারা উন্মোচনের দিন। ২০২৪ সালের এই জুলাইয়ে পুরো দেশ যখন এক অগ্নিগর্ভে রূপ নিয়েছিল, তখন ক্ষমতার মসনদ বাঁচাতে বুলেটের ওপর ভর করেছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গের সামনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মমতা আর চক্রান্ত সেদিন পৌঁছেছিল এক চূড়ান্ত সীমায়।

ডিবি কার্যালয়ের নাট্যমঞ্চ ও জিম্মি সমন্বয়ক

সেদিন রাজধানী ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় রূপ নিয়েছিল এক রাজনৈতিক জিম্মিশালায়। তৎকালীন ‘ভাতের হোটেলের মালিক’ খ্যাত ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের নিয়ন্ত্রণে হেফাজতে রাখা হয়েছিল কোটা আন্দোলনের শীর্ষ ছয় সমন্বয়ক—নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদারকে।

দুই দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর, রাত ৯টার দিকে একটি রেকর্ড করা ভিডিও বার্তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জিম্মি অবস্থায় লিখিত বক্তব্য পড়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয় তাঁদের। কিন্তু ডিবি অফিসের কাঁচের দেয়াল ভেদ করে সাধারণ ছাত্র-জনতা ঠিকই বুঝে ফেলেছিল—এটি কোনো মুক্ত কণ্ঠের আহ্বান নয়, এটি বন্দুকের নলের মুখে লেখা এক জবরদস্তিমূলক নাটক।

ডিবি কার্যালয়ের সেই ঘেরাটোপের বাইরে থেকে সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে আসে বিদ্রোহের সুর। আত্মগোপনে থাকা সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, মাহিন সরকার ও হান্নান মাসুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন—”ডিবি অফিস কখনোই শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের স্থান হতে পারে না। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজপথের লড়াই থামেনি; বরং ডিবি কার্যালয়ের এই ভণ্ডামি ও জিম্মিদশার প্রতিবাদে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

রাজপথে সশস্ত্র বাহিনী ও ব্লকরেইডের আতঙ্ক

স্বৈরাচারী সরকার ভাবছিল কেবল সমন্বয়কদের আটকে রেখে কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর বিকাল ৩টায় চালু করে জনমনে স্বাভাবিকতা ফেরানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে সারাদেশ তখন অবরুদ্ধ এক যুদ্ধক্ষেত্র। ১১ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও অলিগলিতে থমথমে আতঙ্ক। সাইরেন বাজিয়ে সাঁজোয়া যান ও বিজিবি-পুলিশের বহর ঘুরে বেড়াচ্ছিল রাজপথে।

‘টার্গেট শিক্ষার্থী ও বিরোধী দল’—এই নীতিতে শুরু হয়েছিল রাতের আঁধারে চিরুনি অভিযান ও ‘ব্লক রেইড’। রাজধানীর শাহীনবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝরাতে আকাশে টহল দিত হেলিকপ্টার, নিভিয়ে দেওয়া হতো রাস্তার বাতি। এরপর ভারী বুটের শব্দে দরজায় কড়া নাড়া। ঘরে ঢুকে নির্বিচারে তল্লাশি, শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া আর জামিন না দিয়ে সরাসরি রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ছিল তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিত্যদিনের চিত্র। সুপ্রিম কোর্টের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে জেলে পুরে রাখা হচ্ছিল।

লাশ ঢেকে অনুদানের নাটক: শেখ হাসিনার নির্লজ্জতা

সরকারি হিসেবেই ১৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ১৪৭ জনের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (যদিও বেসরকারি ও হাসপাতাল সূত্রে সেই সংখ্যা আগেই দুই শতাধিক ছাড়িয়েছিল)। কিন্তু বুকে গুলি চালিয়েও যখন এই গণঅভ্যুত্থান দমানো যাচ্ছিল না, তখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আশ্রয় নেন করুণা প্রদর্শনের নতুন কৌশলে।

রংপুরের বীর শহীদ আবু সাঈদের পরিবারসহ নিহত ৩৪টি পরিবারের সদস্যদের গণভবনে ডেকে আনা হয়। স্বজনহারা পরিবারের কান্নার মাঝেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ। যে হাতগুলো নির্দেশ দিয়েছিল তরুণের বুকে গুলি চালানোর, সেই হাতগুলোই অশ্রুপাতের নাট্যাভিনয় করে অর্থ দিয়ে রক্তের দাগ মোছার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। উল্টো সেখান থেকেই হুংকার দেওয়া হয়—”বাংলাদেশকে নিয়ে খেলা খেলতে দেওয়া হবে না।”

অহংকার ও গণবিচ্ছিন্নতার চরম পরাকাষ্ঠা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেদিন নিজের কার্যালয়ে বসে তোপ দাগছিলেন। আন্দোলনকারীদের রাজপথের ক্ষোভকে উড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা স্টাইলে গণভবন দখলের চক্রান্ত এবং ড. ইউনূসের নাম টেনে এনে ষড়যন্ত্রের জিকির তুলছিলেন। সরকারের মন্ত্রীদের মনে হয়েছিল সবকিছু হয়তো দমনপীড়নে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, অথচ ভেতরে ভেতরে বিস্ফোরক হয়ে উঠছিল কোটি মানুষের হৃদয়।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের ক্যাডার ও গুন্ডাবাহিনী সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। খোদ দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছিল—”কোথায় গেল এত আওয়ামী লীগ?” রাজনীতির মাঠ সংকুচিত হতে হতে কেবল বুলেট আর টিয়ারগ্যাসের ওপর টিকে ছিল তাদের অস্তিত্ব।

নিভে যাওয়া প্রাণ ও জেগে ওঠা বাংলাদেশ

হাসপাতালের মর্গে তখন লাশের সারি। নিহতেদের বড় অংশই ছিল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—রিকশাচালক, শিশুশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কেয়ারটেকার। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছিল না তাঁদের; ছিল শুধু বেঁচে থাকার আকুতি আর স্বৈরাচারের নির্বিচার গুলির শিকার হওয়ার করুণ পরিণতি।

কিন্তু রক্ত দিয়ে যে ইতিহাস লেখা শুরু হয়, তা ডিবি অফিসের কোনো জোরপূর্বক ভিডিও বার্তায় মুছে ফেলা যায় না। ২৮ জুলাইয়ের প্রতিটা রাজপথ, প্রতিটা লাশের রক্তবিন্দু এবং প্রতিটা ব্লকরেইডের ভয়াল অভিজ্ঞতা বাঙালির ক্ষোভের আগুনকে দ্বিগুণ করে দিয়েছিল। বুলেটের ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে যাওয়ার বদলে আপামর জনতা একজোট হয়েছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান। রাজপথ সেদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এবার আর কোনো পিছু হটা নয়, লড়াই শেষ হবে একেবারে স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনয়ে ফিরতে চান, ভবিষ্যতে পরিচালনাতেও আগ্রহ মাইলি সাইরাসের

২৮ জুলাই ২০২৪: ডিবি দপ্তরের নাটক ও বুলেটে লেখা ইতিহাস

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইতিহাসের পাতায় ২৮ জুলাই কোনো সাধারণ তারিখ নয়। এদিন রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক চরম নাট্যমঞ্চ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের নিষ্ঠুরতম চেহারা উন্মোচনের দিন। ২০২৪ সালের এই জুলাইয়ে পুরো দেশ যখন এক অগ্নিগর্ভে রূপ নিয়েছিল, তখন ক্ষমতার মসনদ বাঁচাতে বুলেটের ওপর ভর করেছিল স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকার। ছাত্র-জনতার উত্তাল তরঙ্গের সামনে রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মমতা আর চক্রান্ত সেদিন পৌঁছেছিল এক চূড়ান্ত সীমায়।

ডিবি কার্যালয়ের নাট্যমঞ্চ ও জিম্মি সমন্বয়ক

সেদিন রাজধানী ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয় রূপ নিয়েছিল এক রাজনৈতিক জিম্মিশালায়। তৎকালীন ‘ভাতের হোটেলের মালিক’ খ্যাত ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের নিয়ন্ত্রণে হেফাজতে রাখা হয়েছিল কোটা আন্দোলনের শীর্ষ ছয় সমন্বয়ক—নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, নুসরাত তাবাসসুম ও আবু বাকের মজুমদারকে।

দুই দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর, রাত ৯টার দিকে একটি রেকর্ড করা ভিডিও বার্তা গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। জিম্মি অবস্থায় লিখিত বক্তব্য পড়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয় তাঁদের। কিন্তু ডিবি অফিসের কাঁচের দেয়াল ভেদ করে সাধারণ ছাত্র-জনতা ঠিকই বুঝে ফেলেছিল—এটি কোনো মুক্ত কণ্ঠের আহ্বান নয়, এটি বন্দুকের নলের মুখে লেখা এক জবরদস্তিমূলক নাটক।

ডিবি কার্যালয়ের সেই ঘেরাটোপের বাইরে থেকে সঙ্গে সঙ্গেই ভেসে আসে বিদ্রোহের সুর। আত্মগোপনে থাকা সমন্বয়ক আব্দুল কাদের, মাহিন সরকার ও হান্নান মাসুদ স্পষ্ট জানিয়ে দেন—”ডিবি অফিস কখনোই শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলনের স্থান হতে পারে না। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” তাঁরা স্পষ্ট বার্তা দেন, রাজপথের লড়াই থামেনি; বরং ডিবি কার্যালয়ের এই ভণ্ডামি ও জিম্মিদশার প্রতিবাদে আন্দোলন আরও বেগবান হবে।

রাজপথে সশস্ত্র বাহিনী ও ব্লকরেইডের আতঙ্ক

স্বৈরাচারী সরকার ভাবছিল কেবল সমন্বয়কদের আটকে রেখে কিংবা মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন পর বিকাল ৩টায় চালু করে জনমনে স্বাভাবিকতা ফেরানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে সারাদেশ তখন অবরুদ্ধ এক যুদ্ধক্ষেত্র। ১১ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হলেও অলিগলিতে থমথমে আতঙ্ক। সাইরেন বাজিয়ে সাঁজোয়া যান ও বিজিবি-পুলিশের বহর ঘুরে বেড়াচ্ছিল রাজপথে।

‘টার্গেট শিক্ষার্থী ও বিরোধী দল’—এই নীতিতে শুরু হয়েছিল রাতের আঁধারে চিরুনি অভিযান ও ‘ব্লক রেইড’। রাজধানীর শাহীনবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঝরাতে আকাশে টহল দিত হেলিকপ্টার, নিভিয়ে দেওয়া হতো রাস্তার বাতি। এরপর ভারী বুটের শব্দে দরজায় কড়া নাড়া। ঘরে ঢুকে নির্বিচারে তল্লাশি, শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যাওয়া আর জামিন না দিয়ে সরাসরি রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন ছিল তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিত্যদিনের চিত্র। সুপ্রিম কোর্টের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে জেলে পুরে রাখা হচ্ছিল।

লাশ ঢেকে অনুদানের নাটক: শেখ হাসিনার নির্লজ্জতা

সরকারি হিসেবেই ১৭ থেকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ১৪৭ জনের প্রাণহানির কথা স্বীকার করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল (যদিও বেসরকারি ও হাসপাতাল সূত্রে সেই সংখ্যা আগেই দুই শতাধিক ছাড়িয়েছিল)। কিন্তু বুকে গুলি চালিয়েও যখন এই গণঅভ্যুত্থান দমানো যাচ্ছিল না, তখন স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আশ্রয় নেন করুণা প্রদর্শনের নতুন কৌশলে।

রংপুরের বীর শহীদ আবু সাঈদের পরিবারসহ নিহত ৩৪টি পরিবারের সদস্যদের গণভবনে ডেকে আনা হয়। স্বজনহারা পরিবারের কান্নার মাঝেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সঞ্চয়পত্র ও নগদ অর্থ। যে হাতগুলো নির্দেশ দিয়েছিল তরুণের বুকে গুলি চালানোর, সেই হাতগুলোই অশ্রুপাতের নাট্যাভিনয় করে অর্থ দিয়ে রক্তের দাগ মোছার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। উল্টো সেখান থেকেই হুংকার দেওয়া হয়—”বাংলাদেশকে নিয়ে খেলা খেলতে দেওয়া হবে না।”

অহংকার ও গণবিচ্ছিন্নতার চরম পরাকাষ্ঠা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সেদিন নিজের কার্যালয়ে বসে তোপ দাগছিলেন। আন্দোলনকারীদের রাজপথের ক্ষোভকে উড়িয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কা স্টাইলে গণভবন দখলের চক্রান্ত এবং ড. ইউনূসের নাম টেনে এনে ষড়যন্ত্রের জিকির তুলছিলেন। সরকারের মন্ত্রীদের মনে হয়েছিল সবকিছু হয়তো দমনপীড়নে নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, অথচ ভেতরে ভেতরে বিস্ফোরক হয়ে উঠছিল কোটি মানুষের হৃদয়।

তৎকালীন আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের ক্যাডার ও গুন্ডাবাহিনী সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। খোদ দলের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছিল—”কোথায় গেল এত আওয়ামী লীগ?” রাজনীতির মাঠ সংকুচিত হতে হতে কেবল বুলেট আর টিয়ারগ্যাসের ওপর টিকে ছিল তাদের অস্তিত্ব।

নিভে যাওয়া প্রাণ ও জেগে ওঠা বাংলাদেশ

হাসপাতালের মর্গে তখন লাশের সারি। নিহতেদের বড় অংশই ছিল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ—রিকশাচালক, শিশুশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কেয়ারটেকার। রাজনৈতিক কোনো পরিচয় ছিল না তাঁদের; ছিল শুধু বেঁচে থাকার আকুতি আর স্বৈরাচারের নির্বিচার গুলির শিকার হওয়ার করুণ পরিণতি।

কিন্তু রক্ত দিয়ে যে ইতিহাস লেখা শুরু হয়, তা ডিবি অফিসের কোনো জোরপূর্বক ভিডিও বার্তায় মুছে ফেলা যায় না। ২৮ জুলাইয়ের প্রতিটা রাজপথ, প্রতিটা লাশের রক্তবিন্দু এবং প্রতিটা ব্লকরেইডের ভয়াল অভিজ্ঞতা বাঙালির ক্ষোভের আগুনকে দ্বিগুণ করে দিয়েছিল। বুলেটের ভয়ে ঘরে সেঁধিয়ে যাওয়ার বদলে আপামর জনতা একজোট হয়েছিল একটাই লক্ষ্য নিয়ে—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান। রাজপথ সেদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এবার আর কোনো পিছু হটা নয়, লড়াই শেষ হবে একেবারে স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি