ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রক্তঝরা ২৪ জুলাই: স্মৃতির ক্যানভাসে অশ্রু আর ক্ষোভ Logo ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার Logo ইতিহাস, স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের এক জীবন্ত সাক্ষী তেরশ্রী মসজিদ Logo মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম Logo সম্পর্কে যেভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে ‘প্যারালাল লাইফ সিন্ড্রোম’ Logo শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হতে দেব না: ভিডিও বার্তায় মোদী Logo আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি Logo ফরিদপুরে বিএনপি নেতার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দল থেকে বহিষ্কার Logo স্পিকার ফিরলেই পদত্যাগপত্র দেবেন রাষ্ট্রপতি, জানিয়ে দিয়েছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদেরও Logo নৌ অবরোধ তুলে নিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার আহ্বান আসিয়ানের

কদর কমছে গ্রামীণ তাঁতশিল্পের

এক সময় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম ছিল তাঁতশিল্প। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁতকল। যারা এখনো কাজ করছেন, তারা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বদলাচ্ছেন পেশা। তাঁতশিল্পী মোহাম্মদ হারুন বলেন, যত দিন যাচ্ছে ততই কমছে তাঁতপণ্যের কদর। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পেশায় জড়িত। একসময় কাজীহাটের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে হ্যান্ডলুম ছিল, এখন একটি নেই। বর্তমানে আমার ১০টি অটোলুমে ৩০ জন কাজ করছেন। আগে শাড়ি, গামছা ও বেনারসি তৈরি হলেও এখন শুধু রুমাল ও তোয়ালে উৎপাদন হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যেত। ময়িন উদ্দিন নামে একজন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে আমার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় সৈয়দপুরের বেনারসি শাড়ির সুনাম ছিল। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল হাজার হাজার পরিবার। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সৈয়দপুরের কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘সুতার মূল্যবৃদ্ধি এবং যন্ত্রচালিত তাঁতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নানা সংকটে পড়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ স্বাধীনতার আগে ও পরবর্তী সময়ে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট, কাজীহাট, হাতিখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজারের বেশি পরিবার তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁতের শব্দে মুখর থাকত এলাকা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদেশি কাপড়ের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁতকল। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু শ্রমিক। টিকে থাকার লড়াই করছেন হাতেগোনা কয়েকজন তাঁতি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রক্তঝরা ২৪ জুলাই: স্মৃতির ক্যানভাসে অশ্রু আর ক্ষোভ

কদর কমছে গ্রামীণ তাঁতশিল্পের

আপডেট সময় ০৯:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

এক সময় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম ছিল তাঁতশিল্প। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা। সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁতকল। যারা এখনো কাজ করছেন, তারা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বদলাচ্ছেন পেশা। তাঁতশিল্পী মোহাম্মদ হারুন বলেন, যত দিন যাচ্ছে ততই কমছে তাঁতপণ্যের কদর। ১৯৮৮ সাল থেকে এ পেশায় জড়িত। একসময় কাজীহাটের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে হ্যান্ডলুম ছিল, এখন একটি নেই। বর্তমানে আমার ১০টি অটোলুমে ৩০ জন কাজ করছেন। আগে শাড়ি, গামছা ও বেনারসি তৈরি হলেও এখন শুধু রুমাল ও তোয়ালে উৎপাদন হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা যেত। ময়িন উদ্দিন নামে একজন বলেন, প্রায় পাঁচ বছর আগে আমার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। একসময় সৈয়দপুরের বেনারসি শাড়ির সুনাম ছিল। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিল হাজার হাজার পরিবার। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সৈয়দপুরের কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ‘সুতার মূল্যবৃদ্ধি এবং যন্ত্রচালিত তাঁতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প নানা সংকটে পড়েছে। এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’ স্বাধীনতার আগে ও পরবর্তী সময়ে সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট, কাজীহাট, হাতিখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজারের বেশি পরিবার তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁতের শব্দে মুখর থাকত এলাকা। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বিদেশি কাপড়ের প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁতকল। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু শ্রমিক। টিকে থাকার লড়াই করছেন হাতেগোনা কয়েকজন তাঁতি।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস