ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অপমান’ ভুলে শাড়ি বিতর্কে তিশার পাশে জয়

জামদানি শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আদালতের সমন জারির ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। পুরোনো এই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ানোয় তিশার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়; একই সঙ্গে তাদের পুরনো একটি ঘটনাও একটু নাড়িয়ে নিলেন।

প্রায় ১০ মাস আগে একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় একটি আইনি নোটিশের সূত্র ধরে বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরে তা চাপা পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি আদালতের সমন জারির পর পুরোনো সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে।

এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তানজিন তিশার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের সমালোচনা করেন। একই সাথে তিশার ওপর থাকা নিজের পুরোনো কিছু ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথাও অকপটে শেয়ার করেন জয়। 

তিশার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জয় লিখেছেন, বিষয়টি একজন তারকা অভিনেত্রীর জন্য খুবই বিব্রতকর। সামান্য টাকার শাড়ির জন্য তার যে ভোগান্তি হচ্ছে সেটা কেটে যাবে খুব দ্রুত তা নিশ্চিত। কিন্তু সাধারণ মানুষের পারসেপশন অর্থাৎ মনোজগতে থেকে যাবে অনন্তকাল যে কোন তানজিন তিশা? যে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করেছিল। সেই তানজিন তিশা। এভাবেই মানুষ বলবে। কখনোই বলবে না সে একজন দারুণ অভিনেত্রী।

জয় উল্লেখ করেন, অনেক বছর ধরে সে মিডিয়াতে দুর্দান্ত অভিনয়ে উপহার দিয়ে এসেছে। অথচ শিরোনামে শিল্পীর পক্ষে কোন পজিটিভ ইম্প্রেশন নেই। যদি শিরোনামটা হতো এমন তুচ্ছ ঘটনায় আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে নাজেহাল হচ্ছেন তানজিন তিশা। তাহলে ভালো হতো। শিল্পী বাঁচলে শিল্প বাঁচবে।

শেষে সেই পুরোনো অপমানের কথা স্মরণ করে জয় লেখেন, তবে আজ একটা দুঃখের কথা বলেই ফেলি। তানজিন তিশা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দুই বছর আগে আমেরিকার একটি অনুষ্ঠানে লোকমুখে শুনতে পেয়েছিলাম—আমি স্টেজে উঠলে সে নাকি স্টেজে উঠবে না! কথাটা কতটুকু সত্যি, তা আমি জানি না।

এরপর আরেকটি অ্যাওয়ার্ড শোতেও শুনতে পেয়েছি, আমাকে দেখে সে নাকি মন্তব্য করেছিল—‘উনি এখানে কেন?’ দুটি কথাই তার খুব কাছের মানুষের মুখে শোনা, যা শুনে স্বাভাবিকভাবেই আমি বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু তাই বলে তার এই দুঃসময়ে আমি তার পাশে থাকব না? তা তো হতে পারে না!

বাংলা৭১নিউজ/এনি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

‘অপমান’ ভুলে শাড়ি বিতর্কে তিশার পাশে জয়

আপডেট সময় ০১:০১:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জামদানি শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আদালতের সমন জারির ঘটনায় নতুন করে তৈরি হয়েছে আলোচনা। পুরোনো এই বিতর্ক আদালত পর্যন্ত গড়ানোয় তিশার পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়; একই সঙ্গে তাদের পুরনো একটি ঘটনাও একটু নাড়িয়ে নিলেন।

প্রায় ১০ মাস আগে একটি জামদানি শাড়িকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় একটি আইনি নোটিশের সূত্র ধরে বিষয়টি আলোচনায় এলেও পরে তা চাপা পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি আদালতের সমন জারির পর পুরোনো সেই বিতর্ক আবারও সামনে আসে।

এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তানজিন তিশার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন শাহরিয়ার নাজিম জয়। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের সমালোচনা করেন। একই সাথে তিশার ওপর থাকা নিজের পুরোনো কিছু ব্যক্তিগত ক্ষোভের কথাও অকপটে শেয়ার করেন জয়। 

তিশার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জয় লিখেছেন, বিষয়টি একজন তারকা অভিনেত্রীর জন্য খুবই বিব্রতকর। সামান্য টাকার শাড়ির জন্য তার যে ভোগান্তি হচ্ছে সেটা কেটে যাবে খুব দ্রুত তা নিশ্চিত। কিন্তু সাধারণ মানুষের পারসেপশন অর্থাৎ মনোজগতে থেকে যাবে অনন্তকাল যে কোন তানজিন তিশা? যে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা করেছিল। সেই তানজিন তিশা। এভাবেই মানুষ বলবে। কখনোই বলবে না সে একজন দারুণ অভিনেত্রী।

জয় উল্লেখ করেন, অনেক বছর ধরে সে মিডিয়াতে দুর্দান্ত অভিনয়ে উপহার দিয়ে এসেছে। অথচ শিরোনামে শিল্পীর পক্ষে কোন পজিটিভ ইম্প্রেশন নেই। যদি শিরোনামটা হতো এমন তুচ্ছ ঘটনায় আদালত পর্যন্ত গড়িয়ে নাজেহাল হচ্ছেন তানজিন তিশা। তাহলে ভালো হতো। শিল্পী বাঁচলে শিল্প বাঁচবে।

শেষে সেই পুরোনো অপমানের কথা স্মরণ করে জয় লেখেন, তবে আজ একটা দুঃখের কথা বলেই ফেলি। তানজিন তিশা আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও, দুই বছর আগে আমেরিকার একটি অনুষ্ঠানে লোকমুখে শুনতে পেয়েছিলাম—আমি স্টেজে উঠলে সে নাকি স্টেজে উঠবে না! কথাটা কতটুকু সত্যি, তা আমি জানি না।

এরপর আরেকটি অ্যাওয়ার্ড শোতেও শুনতে পেয়েছি, আমাকে দেখে সে নাকি মন্তব্য করেছিল—‘উনি এখানে কেন?’ দুটি কথাই তার খুব কাছের মানুষের মুখে শোনা, যা শুনে স্বাভাবিকভাবেই আমি বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু তাই বলে তার এই দুঃসময়ে আমি তার পাশে থাকব না? তা তো হতে পারে না!

বাংলা৭১নিউজ/এনি