ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম Logo পেলের স্মারক বিক্রির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড Logo সেই ঐতিহাসিক ছবিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের বিজ্ঞাপন Logo যে অভ্যাসগুলো মেনে চললে বর্ষায় সুস্থ থাকবেন Logo বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সবশেষ হারের ম্যাচের রেফারি এবার ফাইনালে Logo বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির সতর্কবার্তা Logo বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ‘বিশেষ আংটি’ উপহার দেবে ফিফা Logo আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠে থাকবেন ট্রাম্প Logo এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষার ফল: মাগুরা সেরা, রামেক তৃতীয় Logo ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা

সেই ঐতিহাসিক ছবিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের বিজ্ঞাপন

নিয়তি মাঝেমধ্যে এমন কিছু গল্প লেখে, যা হলিউডের সবচেয়ে প্রতিভাবান চিত্রনাট্যকারের কল্পনাকেও হার মানায়। আগামী রবিবার, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালে তেমনই এক গল্প দেখতে চলেছে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ইউরোপ সেরা স্পেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযুদ্ধের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা। একজন ৩৯ বছর বয়সী জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং অন্যজন ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিশ্বয় বালক লামিনে ইয়ামাল।

কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি মূলত দুই দশকের এক পরম মায়াবী সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি। এই দুই ফুটবল জাদুকরের সবুজ মাঠে একে অন্যের বিরুদ্ধে খেলার ইতিহাস একদম শূন্য। পেশাদার ফুটবলে এই প্রথম তারা একে অন্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে মাঠের বাইরে তাদের প্রথম মোলাকাতের ইতিহাস প্রায় বিশ বছর পুরোনো। তখন ছিল ২০০৭ সালের শেষ দিক। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। এই মানবিক উদ্যোগটি যৌথভাবে নিয়েছিল এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন, জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং স্পেনের বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’।

সেই চ্যারিটি ক্যালেন্ডারে বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে কাতালুনিয়ার স্থানীয় শিশুদের ছবি তোলার পরিকল্পনা করা হয়। এর জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ চ্যারিটি র‍্যাফেল ড্র-তে অংশ নিয়েছিল লই ইয়ামালের পরিবার। ভাগ্যের এক পরম পরিহাসে সেই লটারিতে বিজয়ী হয়ে যায় তারা। আর ফটোশুটের জন্য তাদের কোলে থাকা মাত্র ছয় মাস বয়সী অবুঝ শিশুটির কপালে জোটে বার্সেলোনার তৎকালীন ২০ বছর বয়সি উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার অনন্য সুযোগ।

সেই ফটোশুটের একটি ছবি পরবর্তীকালে গোটা পৃথিবীর বুকে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছবিতে দেখা যায় একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বেবি বাথটাবের ভেতর বসে আছে ছয় মাসের শিশু লামিনে ইয়ামাল। আর পরম মমতায় তাকে স্নান করাচ্ছেন ও কোলে জড়িয়ে ধরে হাসছেন লম্বা চুলের তরুণ লিওনেল মেসি। সেই মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে উপস্থিত কেউ দূরতম কল্পনাতেও ভাবেননি যে, এই তরুণটি একদিন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন।

আর ঐ বাথটাবের অবুঝ শিশুটিই একদিন বিশ্বকাপে স্পেনের ফুটবল সাম্রাজ্যের প্রধান সেনাপতি হয়ে মেসির মুখোমুখি দাঁড়াবেন। চ্যারিটি ক্যালেন্ডারটি ২০০৮ সালে প্রকাশের পর ছবিটি দীর্ঘদিন আর্কাইভের অন্ধকারে ঢাকা পড়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ইউরো কাপে ইয়ামালের অতিমানবীয় উত্থানের পর তার বাবা মুনির নাসরাউই নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছিলেন ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু’। মুহূর্তের মধ্যে এই ছবি ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক বৈশ্বিক উম্মাদনার জন্ম দেয়।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস মিডিয়া প্ল্যাটফরম ডিএজেডএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লামিনে ইয়ামাল এই ঐতিহাসিক ছবি এবং মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন যে, সেই ছবির পর থেকে লিও এবং তিনি দুজনেই এখন বেশ বড় হয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, তাদের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে না গড়ানোর কারণে তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন যেন বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারেন। অবশেষে ভাগ্যদেবতা ইয়ামালের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৭সালে যে হাতটি একটি শিশুকে প্লাস্টিকের বাথটাবে পরম আদরে আগলে রেখেছিল, ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই সেই হাতটিই সেই শিশুর হাত থেকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কেড়ে নিতে লড়বে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

সেই ঐতিহাসিক ছবিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের বিজ্ঞাপন

আপডেট সময় ০৯:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নিয়তি মাঝেমধ্যে এমন কিছু গল্প লেখে, যা হলিউডের সবচেয়ে প্রতিভাবান চিত্রনাট্যকারের কল্পনাকেও হার মানায়। আগামী রবিবার, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালে তেমনই এক গল্প দেখতে চলেছে চলেছে ফুটবল বিশ্ব। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর সেখানে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ইউরোপ সেরা স্পেন। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযুদ্ধের ঠিক কেন্দ্রবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা। একজন ৩৯ বছর বয়সী জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি এবং অন্যজন ১৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ বিশ্বয় বালক লামিনে ইয়ামাল।

কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে ইউরো চ্যাম্পিয়নদের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের পাশাপাশি এটি মূলত দুই দশকের এক পরম মায়াবী সম্পর্কের চূড়ান্ত পরিণতি। এই দুই ফুটবল জাদুকরের সবুজ মাঠে একে অন্যের বিরুদ্ধে খেলার ইতিহাস একদম শূন্য। পেশাদার ফুটবলে এই প্রথম তারা একে অন্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। তবে মাঠের বাইরে তাদের প্রথম মোলাকাতের ইতিহাস প্রায় বিশ বছর পুরোনো। তখন ছিল ২০০৭ সালের শেষ দিক। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে একটি বিশেষ চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটের আয়োজন করা হয়েছিল। এই মানবিক উদ্যোগটি যৌথভাবে নিয়েছিল এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন, জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং স্পেনের বিখ্যাত ক্রীড়া সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ট’।

সেই চ্যারিটি ক্যালেন্ডারে বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে কাতালুনিয়ার স্থানীয় শিশুদের ছবি তোলার পরিকল্পনা করা হয়। এর জন্য আয়োজিত একটি বিশেষ চ্যারিটি র‍্যাফেল ড্র-তে অংশ নিয়েছিল লই ইয়ামালের পরিবার। ভাগ্যের এক পরম পরিহাসে সেই লটারিতে বিজয়ী হয়ে যায় তারা। আর ফটোশুটের জন্য তাদের কোলে থাকা মাত্র ছয় মাস বয়সী অবুঝ শিশুটির কপালে জোটে বার্সেলোনার তৎকালীন ২০ বছর বয়সি উদীয়মান তারকা লিওনেল মেসির সঙ্গে ছবি তোলার অনন্য সুযোগ।

সেই ফটোশুটের একটি ছবি পরবর্তীকালে গোটা পৃথিবীর বুকে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ছবিতে দেখা যায় একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের বেবি বাথটাবের ভেতর বসে আছে ছয় মাসের শিশু লামিনে ইয়ামাল। আর পরম মমতায় তাকে স্নান করাচ্ছেন ও কোলে জড়িয়ে ধরে হাসছেন লম্বা চুলের তরুণ লিওনেল মেসি। সেই মুহূর্তে ড্রেসিংরুমে উপস্থিত কেউ দূরতম কল্পনাতেও ভাবেননি যে, এই তরুণটি একদিন ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হবেন।

আর ঐ বাথটাবের অবুঝ শিশুটিই একদিন বিশ্বকাপে স্পেনের ফুটবল সাম্রাজ্যের প্রধান সেনাপতি হয়ে মেসির মুখোমুখি দাঁড়াবেন। চ্যারিটি ক্যালেন্ডারটি ২০০৮ সালে প্রকাশের পর ছবিটি দীর্ঘদিন আর্কাইভের অন্ধকারে ঢাকা পড়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ইউরো কাপে ইয়ামালের অতিমানবীয় উত্থানের পর তার বাবা মুনির নাসরাউই নিজের ইনস্টাগ্রাম আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশনে লিখেছিলেন ‘দুই কিংবদন্তির পথচলার শুরু’। মুহূর্তের মধ্যে এই ছবি ইন্টারনেট দুনিয়ায় এক বৈশ্বিক উম্মাদনার জন্ম দেয়।

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত স্পোর্টস মিডিয়া প্ল্যাটফরম ডিএজেডএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লামিনে ইয়ামাল এই ঐতিহাসিক ছবি এবং মেসির মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছিলেন। ইয়ামাল হাসিমুখে বলেছিলেন যে, সেই ছবির পর থেকে লিও এবং তিনি দুজনেই এখন বেশ বড় হয়েছেন। তিনি আরও জানান যে, তাদের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত মাঠে না গড়ানোর কারণে তিনি মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন যেন বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে পারেন। অবশেষে ভাগ্যদেবতা ইয়ামালের সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলেছেন। ২০০৭সালে যে হাতটি একটি শিশুকে প্লাস্টিকের বাথটাবে পরম আদরে আগলে রেখেছিল, ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই সেই হাতটিই সেই শিশুর হাত থেকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কেড়ে নিতে লড়বে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস