কাতার বিশ্বকাপের পর থেকে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু পর যা বেড়েছে আরও কয়েকগুণ। ইনফান্তিনোর প্রতি বিশ্বাস হারিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী ফেডারেশনগুলো। এমনকি নিজ দেশেও আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়েছে ইনফান্তিনোকে।
এসবের মাঝেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের বিষয়টি। তবে ইতোমধ্যে ফিফা সভাপতিকে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি)।
ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতাকে সমর্থন জানিয়ে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ডিএফবি সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালেই ফিফার একজন পরিচালক ইউরোপের ১৬টি দেশের কাছ থেকে ইনফান্তিনোর পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছিলেন। তবে জার্মানি এই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।
বিবৃতির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মান ফুটবল ফেডারেশনও। বিবৃতি বলা হয়েছে, জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে সমর্থন জানিয়ে কোনো চিঠিতে ডিএফবি স্বাক্ষর করেনি। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো ডিএফবি-র প্রেসিডেন্সিয়াল বোর্ডে আলোচনা করা হবে।
মূলত, ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা) এবং ফিফার মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের আগুনে ঘি ঢেলেছে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের সাম্প্রতিক একটি ঘটনা।
এই ঘটনায় উয়েফা ফিফার তীব্র সমালোচনা করে বলেছে যে, ফিফা এখানে লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করেছে। ডিএফবি প্রধান নয়েনডর্ফও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ঘটনাকে এভাবে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছিলেন মার্কিন ফুটবলার ফোলারিন বালোগান। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও, বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে তাকে খেলার অনুমতি দেয় ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।
অভিযোগ রয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পর এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
তবে এশিয়ার দেশগুলোসহ বিভিন্ন মহাদেশীয় ফুটবল কনফেডারেশনের ব্যাপক সমর্থনের কারণে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফার সভাপতির পদ ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন ইনফান্তিনো। কারণ, ট্রাম্পের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও তার বিতর্কিত রাজনৈতিক সংযোগের কারণে পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ।
এদিকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ১০ পৃষ্ঠার একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিফা সভাপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে অতি-ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে অলিম্পিক ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের কঠোর রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গ করেছেন।
ফলে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তদন্তের ফলাফল যদি ইনফান্তিনোর বিপক্ষে যায়, তবে ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনের পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এ ছাড়াও চলতি পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে বিতর্কিত হয়েছে রেফারি ও ভিআর। যেখানে বারবার উঠে এসেছে ব্যবসায়ী সুবিধার জন্য আর্জেন্টিনা ও মেসিকে বিশেষ সুবিধার বিষয়টি। বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের গোল বাতিলের বিষয়টি।
ম্যাচ শেষে সরাসারি ফিফার উপর অভিযোগ এনেছেন মিশরের ফুটবলরা। তাদের দাবি, ব্যবসার জন্য আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে চায় ফিফা। তাই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে মেসিরা। রেফারি ম্যাচটা শেষ করে দিয়েছে।
সবমিলিয়ে কঠিন এক সময় পার করছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাই সবকিছু সামাল দিয়ে নিজের চেয়ারের মেয়াদটা বাড়াতে পারেন কিনা সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: গোলডটকম
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























