ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ডিএনসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাজেটের আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নতুন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি জমা ৬৬০ কোটি টাকা, রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা। ব্যয়ের মধ্যে আছে- রাজস্ব ব্যয় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যয় ৯৬৫ কোটি টাকা, অন্যান্য ব্যয় ৭ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৪২৭ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা ও নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বলেও তথ্য দেন প্রশাসক। 

প্রশাসক বলেন, চলতি অর্থবছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় রেখে একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় সীমিত বাজেট নিয়েও ডিএনসিসি নগর উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, সফলভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাজানো হয়েছে। এ বাজেটে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন, বাজার ও মার্কেট আধুনিকায়ন, হকারদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন, কোরবানির হাট আধুনিকায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং খাল সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতেই এ বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, ঢাকা নগরীর সব কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের একক আওতায় নয়; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) এ কাজে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএনসিসি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টাই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএনসিসির ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেট সময় ১১:৪৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে ডিএনসিসির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাজেট ঘোষণা করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ডিএনসিসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মোট বাজেট ছিল ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেট ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা; যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা কম।

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বাজেটের আয়-ব্যয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, নতুন অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট ৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি জমা ৬৬০ কোটি টাকা, রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা, আবর্তক খাতে সাহায্য ও মঞ্জুরি ২১৫ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন অনুদান ১৫০ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে আয় ৯৬৫ কোটি টাকা। ব্যয়ের মধ্যে আছে- রাজস্ব ব্যয় ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা, সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় উন্নয়ন ব্যয় ৮৩ কোটি টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্পে উন্নয়ন ব্যয় ৯৬৫ কোটি টাকা, অন্যান্য ব্যয় ৭ কোটি টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ৪২৭ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকা ও নিজস্ব উৎস থেকে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা বলেও তথ্য দেন প্রশাসক। 

প্রশাসক বলেন, চলতি অর্থবছরে নগরবাসীর উন্নয়ন, রাজস্ব আহরণ এবং বাস্তবায়ন সক্ষমতার বিষয় বিবেচনায় রেখে একটি যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী ও উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় সীমিত বাজেট নিয়েও ডিএনসিসি নগর উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, সফলভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি আরও বলেন, বাসাবাড়ির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা, খাল উদ্ধার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সাজানো হয়েছে। এ বাজেটে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন ও ম্যানহোল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন, আধুনিক সড়কবাতি স্থাপন, বাজার ও মার্কেট আধুনিকায়ন, হকারদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, বস্তিবাসীর উন্নয়ন, কোরবানির হাট আধুনিকায়ন, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের উন্নয়ন এবং খাল সংস্কারের মাধ্যমে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি উন্নত, পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতেই এ বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রশাসক বলেন, ঢাকা নগরীর সব কার্যক্রম সিটি কর্পোরেশনের একক আওতায় নয়; রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) এ কাজে সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে জলাবদ্ধতামুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ে তুলতে কাজ করছে ডিএনসিসি।

তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও সচেতনতা ছাড়া পরিচ্ছন্ন, ডেঙ্গুমুক্ত ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টাই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস