ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সমাজ সভ্যতার জন্য গণমাধ্যম ও উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

সমাজ সভ্যতার জন্য রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও গণমাধ্যমশিল্প ও এর উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভ্য সমাজে জবাবদিহির সংস্কৃতি বজায় রাখতে সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সমাজ এবং সভ্যতার পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে হয় এই চলমান রূপান্তরিত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এর ফলে পুরনো ব্যবস্থাটা দিন দিন অচল হয়ে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাতে প্রবেশে নতুন জ্ঞান, দক্ষতা, আইনি কাঠামোর প্রয়োজন হচ্ছে।

সেটিকে কার্যকর করতে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এই ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা খুব সজাগ নই। ফলে আমাদের অনেক কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখা, উৎসাহ দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ। কারণ আমাদের এই পেশাকে (গণমাধ্যম) বাঁচিয়ে রাখতে হবে, যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে হবে। সভ্য সমাজে জবাবদিহির সংস্কৃতি বজায় রাখতে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট পেশার ব্যক্তিদের চাকরির নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, আমাদের ইনফরমেশনের সোর্স হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটা লায়ন সোর্স হয়ে গেছে। এটি টিপিক্যাল মিডিয়া হাউসগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

তাদের মাল্টিমিডিয়ার উইং ওপেন করতে হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠাগুলোর অনেককেই তাদের আয় সোর্স হিসেবে মাল্টিমিডিয়ার ওপর ডিপেন্ড হতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলে, এই ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে সবার আগে যেটা মনোযোগ দেওয়া দরকার যে আমাদেরকে গণমাধ্যমের এই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের প্রক্রিয়াটাকে ধরে রাখতেই হবে।

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের লক্ষ্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান চ্যালেঞ্জ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু,  বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মনজুরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান এবং নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও শরিফুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

তারা অনলাইন নিউজপোর্টালের নীতিমালা প্রণয়ন, সব গণমাধ্যমের সরকারি বিজ্ঞাপন নিশ্চিত, স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবনা অনুসরণ, গণমাধ্যম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ির আহ্বান জানান।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আগের মতো ১ নভেম্বরই পালিত হবে জাতীয় যুব দিবস

সমাজ সভ্যতার জন্য গণমাধ্যম ও উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:২৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

সমাজ সভ্যতার জন্য রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও গণমাধ্যমশিল্প ও এর উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভ্য সমাজে জবাবদিহির সংস্কৃতি বজায় রাখতে সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে বলেও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বসুন্ধরায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সমাজ এবং সভ্যতার পরিবর্তন হচ্ছে জানিয়ে মতবিনিময় সভায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে হয় এই চলমান রূপান্তরিত প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এর ফলে পুরনো ব্যবস্থাটা দিন দিন অচল হয়ে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাতে প্রবেশে নতুন জ্ঞান, দক্ষতা, আইনি কাঠামোর প্রয়োজন হচ্ছে।

সেটিকে কার্যকর করতে নতুন কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে। এই ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা খুব সজাগ নই। ফলে আমাদের অনেক কিছু মিস হয়ে যাচ্ছে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ রাখা, উৎসাহ দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ। কারণ আমাদের এই পেশাকে (গণমাধ্যম) বাঁচিয়ে রাখতে হবে, যোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, প্রয়োজনে রাষ্ট্রকে ভর্তুকি দিয়ে হলেও এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে হবে। সভ্য সমাজে জবাবদিহির সংস্কৃতি বজায় রাখতে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট পেশার ব্যক্তিদের চাকরির নিরাপত্তা, উদ্যোক্তাদের নিরাপদ রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেন জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, আমাদের ইনফরমেশনের সোর্স হিসেবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম একটা লায়ন সোর্স হয়ে গেছে। এটি টিপিক্যাল মিডিয়া হাউসগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

তাদের মাল্টিমিডিয়ার উইং ওপেন করতে হয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠাগুলোর অনেককেই তাদের আয় সোর্স হিসেবে মাল্টিমিডিয়ার ওপর ডিপেন্ড হতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলে, এই ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে সবার আগে যেটা মনোযোগ দেওয়া দরকার যে আমাদেরকে গণমাধ্যমের এই প্রাতিষ্ঠানিক শক্তিশালীকরণের প্রক্রিয়াটাকে ধরে রাখতেই হবে।

বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় কমিশন গঠনের বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছেন। সরকারের লক্ষ্য অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি আধুনিক, দায়িত্বশীল, স্বাধীন ও টেকসই গণমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের প্রধান চ্যালেঞ্জ সরকার ও গণমাধ্যমের মধ্যে নয়; বরং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত লড়াই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, ডেইলি সানের সম্পাদক রেজাউল করিম লোটাস, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু,  বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ. কে. এম. মনজুরুল ইসলাম, কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খান এবং নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও শরিফুল ইসলাম খান বক্তব্য রাখেন।

তারা অনলাইন নিউজপোর্টালের নীতিমালা প্রণয়ন, সব গণমাধ্যমের সরকারি বিজ্ঞাপন নিশ্চিত, স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবনা অনুসরণ, গণমাধ্যম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নিয়মের কড়াকড়ির আহ্বান জানান।

বাংলা৭১নিউজ/এবি