ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

সারাদেশের বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেইসঙ্গে বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখা, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। গত ১০ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস বা স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো- বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের (স্বাস্থ্য) ওপর অর্পণ করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল

আপডেট সময় ১২:১৩:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সারাদেশের বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেইসঙ্গে বন্যা আক্রান্ত সকল উপজেলায় সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রাখা, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে দেশের সব বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। গত ১০ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তারা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস বা স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো- বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের (স্বাস্থ্য) ওপর অর্পণ করেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস