বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর নাটকীয় ম্যাচে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। তবে শেষ বাঁশি বাজার পর আনন্দের মাঝেও কান্নায় ভেঙে পড়েন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পরে তিনি জানান, সেটি ছিল আনন্দের চেয়ে বেশি স্বস্তির অশ্রু।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসির নেওয়া একটি পেনাল্টিও দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তাফা শোবি। একসময় মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে, আর শেষ হয়ে যাচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ-যাত্রাও।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে লিওনেল স্কালোনির দল। ৭৯তম মিনিটে মেসির ক্রস থেকে গোল করেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর নিজেই সমতাসূচক গোল করেন মেসি। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোল করলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত মেসি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি ছিল এক ধরনের মুক্তি। সবার জন্যই এটি ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা খুবই কঠিন ও হতাশার ছিল।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে ২-০ পিছিয়ে থেকে ফিরে এসে ম্যাচ জেতা সহজ নয়। এই বিশ্বকাপে কোনো দল কাউকে সহজে ছাড় দিচ্ছে না। তাই এই প্রত্যাবর্তন আমাদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার।’
কান্নার কারণ ব্যাখ্যা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘এটি ছিল খাঁটি আনন্দ আর স্বস্তির মুহূর্ত। আমরা বিশ্বকাপে থাকতে চেয়েছিলাম। আমরা চাইনি আজই সব শেষ হয়ে যাক, আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি।’
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত হিসেবে রোমেরোর গোলের কথা উল্লেখ করেন মেসি। তাঁর ভাষায়, ‘রোমেরোর গোলটাই আমাদের বিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। তখনই মনে হয়েছিল, আমরা ম্যাচে ফিরতে পারব। এরপর সমতা ফেরাই এবং শেষ পর্যন্ত জয়ও পাই।’
এই ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের অষ্টম এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২১তম গোলের দেখা পান মেসি। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যান তিনি।
নাটকীয় এই জয়ের সুবাদে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস


























