ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় কাল Logo শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনা ভাড়ায় চলবে শাটল বাস Logo পঞ্চম বিয়ের সাড়ে তিন মাস পরই মা হলেন অভিনেত্রী Logo জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে : ইসি সানাউল্লাহ Logo মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসন রোধে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম Logo ইরাকে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ, আজ নেওয়া হবে কারবালায় Logo জোরালো হচ্ছে ‘এল নিনো’, চরম দুর্যোগের আভাস Logo রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ দিল মিশর Logo ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের Logo সত্যের সন্ধানে এক মহাজাগতিক সুফি দার্শনিক
আঙ্কটাড এর প্রতিবেদন

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের রায় কাল

আঙ্কটাড এর প্রতিবেদন

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এফডিআই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের

আপডেট সময় ১২:১৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এ সময় দেশে এফডিআই প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন) পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাড-এর ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে এফডিআই প্রবাহ ছিল ১২৩ কোটি মার্কিন ডলার (১ দশমিক ২৩ বিলিয়ন), যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ কোটি মার্কিন ডলারে (১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন)। বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও এ প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ অর্থ ব্যয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রবাহ অসম অবস্থায় রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শক্তিশালী এফডিআই প্রবৃদ্ধি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও মোট স্থায়ী মূলধন গঠনে এফডিআইয়ের অংশ তুলনামূলকভাবে কম, তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মডেলের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দেশীয় বিনিয়োগ এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আঙ্কটাড জানিয়েছে, উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর মধ্যে ২০২৫ সালেও উন্নয়নশীল এশিয়া বিশ্বের প্রধান বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। এ অঞ্চলে এ সময় মোট ৬৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এফডিআই এসেছে।

বাংলাদেশের এ সাফল্য এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক আগ্রহের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই প্রতিফলন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই বছর পতনের পর ২০২৫ সালে বৈশ্বিক এফডিআই ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

এ পুনরুদ্ধারের পেছনে ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন শিল্প, জ্বালানি রূপান্তর প্রযুক্তি এবং অন্যান্য কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশিল্প, সেবা, অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার ভবিষ্যতে এফডিআই প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

অর্ধ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি জিডিপি, শিল্পায়ন ও সংযোগ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক অগ্রগতির ফলে বাংলাদেশ ক্রমেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস