ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিজিটাল লেনদেন: বাংলা কিউআর কি গ্রাহক খরচ আরো বাড়াবে!

‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন কোনো খরচের বোঝা বা বাড়তি চার্জ চাপবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের পুরো সেবাটি গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি।

পহেলা জুলাই থেকে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট পয়েন্টে পুরনো সব কিউআর কোড সরিয়ে শুধু ‘বাংলা কিউআর’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মূলত ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে এবং অর্থনীতিকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ অর্থহীন করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১,০০০ টাকা পেমেন্ট করলে ১০ টাকা বাড়তি কাটবে—এমন যে তথ্যটি ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও গুজব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 তাহলে ১% চার্জ মূলত কার জন্য?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেনে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১% মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার্জটি গ্রাহককে দিতে হবে না, এটি দেবেন মার্চেন্ট বা দোকানদার।

সহজ উদাহরণ: একজন ক্রেতা যদি দোকান থেকে ১,০০০ টাকার পণ্য কিনে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করেন, তবে তার অ্যাকাউন্ট বা এমএফএস (বিকাশ/নগদ) থেকে ১,০০০ টাকাই কাটা হবে। দোকানদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে ৯৯০ টাকা এবং বাকি ১০ টাকা (১% ফি) সেবা প্রদানকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেটে রাখবে।

গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া কি বৈধ?
কোনো পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কিউআর কোড ব্যবহারের অজুহাতে গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা দাবি করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী। কোনো দোকানদার বা মার্চেন্ট যদি কিউআর ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তবে গ্রাহক সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমএফএস কর্তৃপক্ষ কিংবা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বাংলা কিউআর-এর আসল সুবিধা কী?
ইন্টারঅপারেবিলিটি: আগে একেক ব্যাংকের বা এমএফএস-এর জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। এখন একটি মাত্র সার্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ বা বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো সেবা দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি: ছোটখাটো মুদি দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতারাও দামি পিওএস (POS) টার্মিনাল ছাড়াই শুধু একটা কাগজের কিউআর স্টিকার দিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন।

সুতরাং, গ্রাহক হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনে আপনার বাড়তি কোনো খরচ বাড়ছে না। নিরাপদ ও ঝটপট লেনদেনের জন্য নিশ্চিত মনে বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারেন।

এরপরও বাংলা কিউআর কোড এর ব্যবহার, লেনদেন প্রক্রিয়া, লাভ-ক্ষতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফি নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল লেনদেন: বাংলা কিউআর কি গ্রাহক খরচ আরো বাড়াবে!

আপডেট সময় ০৮:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর নতুন কোনো খরচের বোঝা বা বাড়তি চার্জ চাপবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে কেনাকাটা বা বিল পরিশোধের পুরো সেবাটি গ্রাহকদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি।

পহেলা জুলাই থেকে দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট পয়েন্টে পুরনো সব কিউআর কোড সরিয়ে শুধু ‘বাংলা কিউআর’ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মূলত ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় করতে এবং অর্থনীতিকে ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ অর্থহীন করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১,০০০ টাকা পেমেন্ট করলে ১০ টাকা বাড়তি কাটবে—এমন যে তথ্যটি ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও গুজব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 তাহলে ১% চার্জ মূলত কার জন্য?
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলা কিউআর-এর মাধ্যমে লেনদেনে ভ্যাটসহ সর্বনিম্ন ১% মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) বা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই চার্জটি গ্রাহককে দিতে হবে না, এটি দেবেন মার্চেন্ট বা দোকানদার।

সহজ উদাহরণ: একজন ক্রেতা যদি দোকান থেকে ১,০০০ টাকার পণ্য কিনে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করেন, তবে তার অ্যাকাউন্ট বা এমএফএস (বিকাশ/নগদ) থেকে ১,০০০ টাকাই কাটা হবে। দোকানদারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে ৯৯০ টাকা এবং বাকি ১০ টাকা (১% ফি) সেবা প্রদানকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেটে রাখবে।

গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া কি বৈধ?
কোনো পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কিউআর কোড ব্যবহারের অজুহাতে গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি টাকা দাবি করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার পরিপন্থী। কোনো দোকানদার বা মার্চেন্ট যদি কিউআর ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তবে গ্রাহক সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমএফএস কর্তৃপক্ষ কিংবা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

বাংলা কিউআর-এর আসল সুবিধা কী?
ইন্টারঅপারেবিলিটি: আগে একেক ব্যাংকের বা এমএফএস-এর জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহার করতে হতো। এখন একটি মাত্র সার্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ বা বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো সেবা দিয়ে পেমেন্ট করা যাবে।

ক্যাশলেস অর্থনীতি: ছোটখাটো মুদি দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাতের বিক্রেতারাও দামি পিওএস (POS) টার্মিনাল ছাড়াই শুধু একটা কাগজের কিউআর স্টিকার দিয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারছেন।

সুতরাং, গ্রাহক হিসেবে ডিজিটাল লেনদেনে আপনার বাড়তি কোনো খরচ বাড়ছে না। নিরাপদ ও ঝটপট লেনদেনের জন্য নিশ্চিত মনে বাংলা কিউআর ব্যবহার করতে পারেন।

এরপরও বাংলা কিউআর কোড এর ব্যবহার, লেনদেন প্রক্রিয়া, লাভ-ক্ষতি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ফি নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ