শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

বিশ্ববাজারে আরও কমে গেল সোনার দাম

বাংলা৭১নিউজ, ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সোনার বাজার। ডলারের শক্তি পুনরুদ্ধার এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর নীতিগত সংকেতের চাপে শুক্রবারও (১৯ জুন) বিশ্ববাজারে কমে গেছে সোনার দাম। 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন সকালে স্পট মার্কেটে সোনার দাম কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ১৮৯ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন সোনার ফিউচারও কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৭ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে এসেছে।

রয়টার্স বলছে, মার্কিন ডলারের মান বিগত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করায় অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক সোনা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে আবারও তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যকর হওয়ায় তারা ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ এখন এতটাই বেড়েছে যে, বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তা উপেক্ষা করতে পারছে না। মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নেতৃত্বে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে ঋণের খরচ বাড়িয়েছে অথবা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকে ফেড সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ সীমার মধ্যে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে, বুধবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে দেখা যায়, ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে নয়জন মনে করেন চলতি বছর সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে আমেরিকার সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৮৭ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের সভার আগে মাত্র ৬১ শতাংশ ছিল। সাধারণত সুদের হার উচ্চ থাকলে সোনা তার বিনিয়োগ আকর্ষণ হারায় কারণ এটি থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। 

এই বাস্তবতায় বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স আগামী ডিসেম্বর মাসের জন্য সোনার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা আগের ৫ হাজার ৪০০ ডলার থেকে কমিয়ে ৪ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে কারণ ব্যাংকটি চলতি বছরে ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।

এদিকে, বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিয়মিত দেশের বাজারে সোনার দাম আপডেট করে আসছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সে অনুযায়ী, সোনার দাম যে কোনো সময় কমানো হতে পারে দেশের বাজারেও। 

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন মূল্যবান এই ধাতুটির দাম নির্ধারণে ক্ষেত্রে ভরি প্রতি ২ হাজার ৫০৮ টাকা ভ্যাট যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
 
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে স্বর্ণালঙ্কারের ভ্যাটসহ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। 

এতে আরও বলা হয়, স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য।

নতুন এ দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে শুক্রবার (১৯ জুন)। স্পট মার্কেটে রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সেইসঙ্গে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৭২ ডলারে নেমে এসেছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com