শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

দরকষাকষিতে ঝুলে আছে বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব

বাংলা৭১নিউজ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৯ মে, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে নাটকীয়তা যেন কাটছেই না। শনিবারও (৯ মে) রাজ্যটিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেট্টরি কাঝাগাম (টিভিকে) সরকার গড়ার দাবি জানালেও মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা।

দুই আসন পাওয়া ভিসিকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন না মেলায় বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন ভিসিকে প্রধান থল তিরুমাভালাভান। গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বিজয়ের মন্ত্রিসভায় তাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোটে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করার টোপ দেওয়া হয়েছে বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। শনিবার সকালে তার চূড়ান্ত অবস্থান জানানোর কথা ছিল, কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি নীরবতা ভাঙেননি।

রিসোর্টকাণ্ড ও ‘হর্স ট্রেডিং’র অভিযোগ

সরকার গঠনের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বিজয়ের দলের বিরুদ্ধে ‘হর্স ট্রেডিং’ বা বিধায়ক কেনাবেচার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, পুদুচেরির একটি রিসোর্টের বাইরে রাখা গাড়ির ভেতরে এএমএমকের একমাত্র বিধায়ককে মন্ত্রিত্বের লোভ দেখিয়ে বিজয়ের সমর্থনে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। টিভিকে নেতারা সেই সই করা কাগজের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারকে পাঠিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে একটি বড় ভুল করেন বিজয় শিবিরের নেতারা। সই করা মূল কাগজটি ওই বিধায়কের কাছেই রয়ে যায়। পরে রাজ্যপাল যখন এএমএমকের প্যাডে আনুষ্ঠানিক চিঠি দাবি করেন, তখন পুরো বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।

এএমএমকে প্রধান টিটিভি দিনাকরণ সাফ জানিয়ে দেন, তারা বিজয়কে নয় বরং এআইএডিএমকে-কে সমর্থন করছেন। মধ্যরাতে ওই বিধায়ককেও রাজ্যপালের সামনে হাজির করা হয়।

এই ঘটনায় বিজয় শিবিরের ভেতরেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা মনে করেন, এই বিতর্ক বিজয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। অনেকেই দলের নির্বাচনি প্রচার ম্যানেজার আধব অর্জুনের অদক্ষতা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন। এই মুহূর্তে বিজয়ের পক্ষে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে আরও অন্তত দুটি আসন প্রয়োজন।

তিরুমাভালাভানের ভিসিকে যদি শেষ পর্যন্ত বিজয়কে সমর্থন দেয়, তবে নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। কারণ বিজয়ের সম্ভাব্য জোটে রয়েছে পিএমকে, যারা মূলত ওবিসি ভান্নিয়ার সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে ভিসিকের মূল শক্তি দলিত ভোটাররা। এই দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈরিতা রয়েছে। এই বৈরিতা ভুলে তারা কীভাবে এক ছাতার নিচে দাঁড়াবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

শনিবার সকালে ভিসিকের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত রাখা হয়। ফলে তামিলনাড়ুর মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসছেন—বিজয় নাকি অন্য কেউ—তা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে আরও।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com