
দীর্ঘ ১৩ মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় সচল হয়েছে। মিয়ানমার থেকে ছেড়ে আসা একটি কাঠবোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে যা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে মিয়ানমারের মংডু এলাকা থেকে ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশে রওনা করে দুপুর দেড়টায় টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছায়।
এ সময় স্থলবন্দর পরিদর্শনে আসেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, আমরা চাই বৈধ ব্যবসা চালু হোক, যা থেকে রাজস্ব আদায় হবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দুই মাসের মাথায় আজ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে ট্রলার।
মেসার্স এসআইএস ইন্টারন্যাশনাল মালিক আমদানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এফআরবি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে অবশেষে টেকনাফ স্থলবন্দরে কাঠের বোট পৌঁছেছে। আমরা ব্যবসায়ীরা প্রাণ ফিরে পেয়েছি, পুরোদমে চালু হলে এতদিনের ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ হবে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছি। আমাদের সরকার সব সময় জনগণের পাশে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আনা-নেওয়া শুরু হয়েছে। যা এ অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করায় সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, দুপুরে কাঠবোঝাই ট্রলার বন্দরে পন্টুনে এসে ভিড়েছে, এতে চম্পাফুল ৫২০ পিস, গর্জন ৪৪৩ পিস—মোট ৯৬৩ পিস কাঠ এসেছে, যা খালাসের জন্যে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গত ৬ এপ্রিল নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান টেকনাফ স্থলবন্দর পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ