
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়াশিংটন প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন গোলাবারুদ ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পশ্চিম জেরুজালেমে পৌঁছে দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছেন। প্রতিবেদনে এটিকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানকে একটি সুবিধাজনক শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করতে দেশটির সামরিক অবকাঠামো এবং নেতৃত্বের ওপর একটি ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু খুবই শক্তিশালী’ বিমান হামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে একটি কূটনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি উভয় পক্ষের মধ্যে প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির আশদোদ ও হাইফা বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কার্গো জাহাজ নোঙর করেছে। এগুলোতে হাজার হাজার আকাশ ও স্থল গোলাবারুদ, সামরিক ট্রাক, জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকেল এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই সরঞ্জামগুলো শত শত ট্রাকে করে দেশজুড়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল ৪০৩টি এয়ারলিফট এবং ১০টি সমুদ্রপথের চালানের মাধ্যমে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টনেরও বেশি সামরিক সহায়তা পেয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বৃহস্পতিবার বলেন, “ইরান যেন আর কখনো হুমকি হয়ে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য আমাদের খুব শিগগির আবারো সামরিক ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।”
একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মজিদ মুসাভি বলেন, “ইরান যদি আবারো আক্রান্ত হয়, তাহলে এবার তারা ‘কঠোর, দীর্ঘস্থায়ী এবং সুদূরপ্রসারী হামলার’ মাধ্যমে জবাব দেবে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি