
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের অভিযোগ এনে এসব চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট।
পাশাপাশি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে গণহত্যা এবং দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন-যুদ্ধ বন্ধ করার দাবিও জানান তারা।
আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশে জোটের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। এ চুক্তির পোশাকি নাম ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)।’
তারা দাবি করেন, অসম এ চুক্তিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার অজুহাতে এই চুক্তিতে একতরফা সুবিধা ও কর্তৃত্ব নিশ্চিত করেছে এবং বাংলাদেশের ওপর শুল্ক, শুল্ক-বহির্ভূত নানান অসম শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে।
বক্তব্যে তারা আরও বলেন, এটা স্পষ্ট যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি অসম, অন্যায্য ও অধীনতামূলক। এই চুক্তি বাংলাদেশকে শুধু অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়ার চর কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনা দলের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
বক্তারা আরও বলেন, একই দিন কেরাণীগঞ্জের পদগীও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সুইজারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান মেডলগ এমএর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অস্বাভাবিক দ্রুততায় এবং গোপন প্রক্রিয়ায় এসব চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকার দেশের বন্দর বিদেশিদের কাছে ইজারা দিয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বৃহত্তম ও লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্থের কাছে ইজারা দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
তারা বলেন ,অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এসব তৎপরতা ছিল তাদের এখতিয়ার বহির্ভূত।
বক্তাদের দাবি, বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। সংসদে আলোচনা করতে হবে। সকল অসম-জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।
মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি বাতিল করেছে এবং ভারত স্থগিত করেছে বলেও জানান তারা।
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটে রয়েছে- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ জাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ মাহবুব), গণমুক্তি ইউনিয়ন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট এবং সোনার বাংলা পার্টি।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ