বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ

নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, মার্চে হাসপাতালে ভর্তি ৩৮ জন

নাটোর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মার্চ মাসে জেলায় ৩৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে হামে আক্রান্ত ৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফাতুল কাশফি নামে সাড়ে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুটি নাটোর সদর উপজেলার বড় হরিশপুর ইউনিয়নের ঋষি নওগাঁ গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।

শিশুটির বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে ঠান্ডা ও জ্বর নিয়ে নাটোর সদর হাসপাতালে কাশফিকে ভর্তি করা হয়। শুরুতে সে কান্নাকাটি করলেও বিকেল থেকে সাড়া দিচ্ছিল না। পরদিন শনিবার স্বজনরা খেয়াল করেন, তার গলার ভেতর হামের মতো গুটি বেরিয়েছে, যা রোববার পুরো শরীরে ফুটে ওঠে। অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে তার মৃত্যু হয়।

নাটোর সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের নমুনা পরীক্ষার পর ১৩ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এরই মধ্যে ৯ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। একজনকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল (যার মৃত্যু হয়েছে) এবং বর্তমানে সদর হাসপাতালে ৩ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মঙ্গলবার নাটোর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, ৪১৫ নম্বর কক্ষে হামে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে চিকিৎসাধীন সব শিশুর বয়সই ৯ মাসের কম।

আক্রান্ত শিশুদের স্বজনরা জানান, শুরুতে চিকিৎসকরা সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর মনে করে আক্রান্তদের শিশু ওয়ার্ডে অন্য রোগীদের সঙ্গেই ভর্তি করেন। এক-দুই দিন পর শরীরে র‌্যাশ উঠলে এবং হাম সন্দেহ হওয়ার পর তাদের আলাদা কক্ষে (আইসোলেশন) নেওয়া হয়। এতে সাধারণ শিশুদের মাঝেও হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসব বিষয়ে নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, জেলায় ৩৮ জন শিশুর হামের প্রাথমিক উপসর্গ ছিল, যার মধ্যে ১৩ জনের হাম পজিটিভ আসে। মৃত শিশুটির হাম ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

শনাক্তের আগে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, শুরুতে হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। তবে এখন কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে, হাম সন্দেহ হলেই শুরু থেকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com