শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত সমর্থন-সংহতি পুনর্ব্যক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মান্নান হাওলাদার মারা গেছেন কমলাপুরে ঢাকা ফেরা মানুষের ভিড় ঢাকাসহ দেশের ৪ অঞ্চলে ঝোড়ো বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান: ট্রাম্প জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার স্বাধীনতা দিবসে চী‌নের রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত পাঠাতে অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি ফেরিঘাটে বাস দুর্ঘটনা: ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ৬ কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত ঘোষণা করলেন ট্রাম্প

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিন পিছিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের অনুরোধে তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসের পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিপরীতে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো আলোচনার বিষয় অস্বীকার করেছে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়। বর্তমানে এ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে।

এর আগে, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানো হবে। পরে “ফলপ্রসূ আলোচনা”র কথা উল্লেখ করে তিনি প্রথমে ৫ দিনের সময় বাড়ান। এবার সেটি দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ দিন বাড়ানো হলো।

এদিকে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক অবকাঠামো বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত না হয়।

বর্তমান সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়তে থাকে।

এ অবস্থায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চুক্তির জন্য মিনতি করছে। তবে তেহরান এ বক্তব্যও নাকচ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ আরও বাড়ানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার দাবি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। মার্কিন গণমাধ্যমেও ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আলোচনা উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালী কেন্দ্রিক এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com