
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়; বরং এটি জনকল্যাণ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার স্থান হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘২৪ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে। তাই সরকারবিরোধী ভেদাভেদ নয়, স্পিকারের কাছে আমরা সবার জন্য সুবিচার প্রত্যাশা করি।’
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ সাধারণ কোনো সংসদ নয়, বরং এটি অনেক ত্যাগ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত একটি সংসদ। বক্তব্যের শুরুতে তিনি দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও সময়ের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৫২, ১৯৭১, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, আহত বা পঙ্গু হয়েছেন তাদের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে যারা নির্যাতনের শিকার হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন কিংবা আয়নাঘরের বন্দি হয়েছেন তাদের সবার প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাই। বিশেষভাবে ২৪-এর জুলাইয়ে যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে আজকের এই সংসদ গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের স্মরণ করছি।
শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ যেন তাদের শহীদের মর্যাদা দান করেন এবং যারা আহত বা পঙ্গু হয়েছেন তাদের দ্রুত সুস্থতা দান করেন। এ সময় তিনি নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, আজ আপনি মহান সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং আপনার সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কামাল সাহেব (ব্যারিস্টার কায়সার কামাল) নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা দুজনকেই আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আপনি একটি দল থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে এলেও ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে আপনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এখন আমরা মনে করি আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না। আমরা আপনার কাছে সুবিচার পাবো।
সংসদের অতীত কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেক সময় দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা না হয়ে ব্যক্তিগত চরিত্র হননের রাজনীতি হয়েছে।
তিনি স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদ যেন কারও চরিত্র হননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। এখানে যেন জনকল্যাণের বিষয়গুলোই অগ্রাধিকার পায়। এ সময় তিনি তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতির বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান সংসদে অনেক তরুণ সদস্য রয়েছেন এবং তাদের কাছ থেকে গঠনমূলক রাজনীতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ আশা করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ ২৪ জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সেই আন্দোলনের একটি স্লোগান ছিল- ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। আজ আবারও আমরা সেই দাবি উচ্চারণ করছি “উই ওয়ান্ট জাস্টিস।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সংসদের মাধ্যমে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ধরনের অন্যায়-অসঙ্গতির অবসান ঘটবে।
বক্তব্যের শেষে স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে তিনি বলেন, ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সংসদ সফলভাবে পরিচালনা করবেন এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
বাংলা৭১নিউজ/এবি