ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সে বিক্ষোভে গ্রেনেড তুলতে গিয়ে কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে।

দ্য হিন্দু জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছে। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও স্কুলের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দাবিতে তারা এ আন্দোলন করছে।

সোমবার দেশটির ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০০টির বেশি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার আরো বড় বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন এ কর্মসূচিকে আন্দোলনের ‘তৃতীয় ধাপ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও টানা বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালো সপ্তাহ’।

পুলিশের একটি ইউনিয়নের সূত্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের লঁস শহরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া একটি বিস্ফোরক তুলে নিয়েছিল ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোর। সেটি তার হাতে বিস্ফোরিত হলে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কিশোরটিকে লিল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের পা-দ্য-কালে অঞ্চলের প্রশাসক ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লশ জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। এদিকে গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে বিক্ষোভের সময় ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পায়।

সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ওই কিশোর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা এ ঘটনায় ১০টি তদন্ত শুরু করেছে।

দেশজুড়ে শত শত স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত চাপের ক্লাসসূচি, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং গরম বাড়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী নয়—এমন স্কুল ভবন নিয়ে তারা অভিযোগ করছেন।

মধ্য প্যারিসের শার্লেমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলমা এএফপিকে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না। ২০২৭ সালের নির্বাচন সামনে রেখে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে সরকার অভিযোগ করেছে, উগ্র বামপন্থী কর্মীরা আন্দোলন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। শার্লেমান উচ্চবিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সিমন বলেন, শুধু ইন্টারনেটের একটি প্ল্যাটফর্মে কথা বলার সুযোগ দিলেই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ শেষ হবে না। এই ক্ষোভ বহু বছর ধরে জমে আছে।

সোমবার ফরাসি মানবাধিকার লীগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। মধ্য প্যারিসে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলো হর্ন বাজায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলের ভেতরে গিয়ে ক্লাসেও অংশ নেয়।

গুস্তাভ আইফেল উচ্চবিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে আতশবাজি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেই শহরের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাবিতে ধর্মঘটে যাওয়া শিক্ষকদের সমর্থনে তখন বিক্ষোভ করা হয়েছিল।

পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্রান্সে। একপর্যায়ে কিছু জায়গায় ভাঙচুর শুরু হয়। বাসস্টপ ভাঙচুর, স্কুলের প্রবেশপথে আগুন দেওয়া এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে বা ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের জায়গা পূরণ এবং খালি পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশটির অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ভবন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আঞ্চলিক পরিষদের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দিয়েই মেরামতের খরচ বহন করানোর জন্য নতুন একটি আইন করতে চায় সরকার। এতে মেরামতের খরচ সরকারি অর্থ থেকে দিতে হবে না। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ফ্রান্সে বিক্ষোভে গ্রেনেড তুলতে গিয়ে কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় ১২:০০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভের সময় এ ঘটনা ঘটে।

দ্য হিন্দু জানায়, সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে আসছে। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও স্কুলের সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দাবিতে তারা এ আন্দোলন করছে।

সোমবার দেশটির ৩ হাজার ৭০০ উচ্চবিদ্যালয়ের মধ্যে ৫০০টির বেশি পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার আরো বড় বিক্ষোভের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন এ কর্মসূচিকে আন্দোলনের ‘তৃতীয় ধাপ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও টানা বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হচ্ছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালো সপ্তাহ’।

পুলিশের একটি ইউনিয়নের সূত্র জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের লঁস শহরে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া একটি বিস্ফোরক তুলে নিয়েছিল ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোর। সেটি তার হাতে বিস্ফোরিত হলে তার হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কিশোরটিকে লিল শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের পা-দ্য-কালে অঞ্চলের প্রশাসক ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লশ জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। এদিকে গত সপ্তাহে মধ্যাঞ্চলের তুর শহরে বিক্ষোভের সময় ১৬ বছর বয়সী আরেক শিক্ষার্থী মাথায় গুরুতর আঘাত পায়।

সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ওই কিশোর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৭১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা এ ঘটনায় ১০টি তদন্ত শুরু করেছে।

দেশজুড়ে শত শত স্কুলের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত চাপের ক্লাসসূচি, জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং গরম বাড়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার উপযোগী নয়—এমন স্কুল ভবন নিয়ে তারা অভিযোগ করছেন।

মধ্য প্যারিসের শার্লেমান উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলমা এএফপিকে বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না। ২০২৭ সালের নির্বাচন সামনে রেখে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ওই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর উত্তরসূরি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সমাধানের চেষ্টা করছে। তবে সরকার অভিযোগ করেছে, উগ্র বামপন্থী কর্মীরা আন্দোলন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। শার্লেমান উচ্চবিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সিমন বলেন, শুধু ইন্টারনেটের একটি প্ল্যাটফর্মে কথা বলার সুযোগ দিলেই শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ শেষ হবে না। এই ক্ষোভ বহু বছর ধরে জমে আছে।

সোমবার ফরাসি মানবাধিকার লীগ নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছে। বিক্ষোভকারীদের অনেকেই অপ্রাপ্তবয়স্ক। মধ্য প্যারিসে কয়েক ডজন শিক্ষার্থী একটি স্কুলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া গাড়িগুলো হর্ন বাজায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলের ভেতরে গিয়ে ক্লাসেও অংশ নেয়।

গুস্তাভ আইফেল উচ্চবিদ্যালয়ের বাইরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে আতশবাজি ছোড়ে। জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত ছিল বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকেরা। গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেই শহরের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের দাবিতে ধর্মঘটে যাওয়া শিক্ষকদের সমর্থনে তখন বিক্ষোভ করা হয়েছিল।

পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ফ্রান্সে। একপর্যায়ে কিছু জায়গায় ভাঙচুর শুরু হয়। বাসস্টপ ভাঙচুর, স্কুলের প্রবেশপথে আগুন দেওয়া এবং বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয়েছে বা ব্যাপক ভাঙচুর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের ৮৭ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

রবিবার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা শিক্ষকদের জায়গা পূরণ এবং খালি পদে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। দেশটির অনেক স্কুল ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ভবন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আঞ্চলিক পরিষদের সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দিয়েই মেরামতের খরচ বহন করানোর জন্য নতুন একটি আইন করতে চায় সরকার। এতে মেরামতের খরচ সরকারি অর্থ থেকে দিতে হবে না। সরকারের মুখপাত্র মওদ ব্রেজোঁ এই আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ