যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতার তিন দিনব্যাপী বহুল আলোচিত দ্বিপক্ষীয় সফর ও বৈঠক শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে নিজেই উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যান্ড দল দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে এবং বিমানবন্দরে দুই দেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
২০১৫ সালের পর এটিই শি জিনপিংয়ের প্রথম ওয়াশিংটন সফর। গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় সফরে দুই নেতার মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক, নৈশভোজসহ বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইরান পরিস্থিতি, তাইওয়ান সংকট এবং বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে।
স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৫টা ৩৯ মিনিটে এয়ার চায়নার একটি বিশেষ উড়োজাহাজে করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান শি জিনপিং। বিমান থেকে নামার পর চীনের প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিবাদন জানানো হয়। লালগালিচার দুই পাশে সশস্ত্র বাহিনীর গার্ড অব অনার অবস্থান নেয় এবং ট্রাম্প দম্পতি তাদের সংবর্ধিত করে পাশাপাশি হেঁটে ছবি তোলেন।
অভ্যর্থনা চলাকালে আকাশে মার্কিন বিমানবাহিনীর দুটি বি-১ বোমারু বিমান চক্কর দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। সৌজন্য সাক্ষাতের পর দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান পৃথক গাড়িতে করে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১৯৬২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে অভ্যর্থনা জানালেন।
এদিকে সফরের শুরুতেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি সম্প্রসারিত হয়েছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ছাড়ের বিপরীতে চীনও বিরল মৃত্তিকা ধাতু (রেয়ার আর্থ) রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখবে।
চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, সফরে আশা প্রকাশ করে শি জিনপিং বলেছেন—চীনা জাতির পুনর্জাগরণ এবং মার্কিন সমৃদ্ধি একসঙ্গে বিশ্বশান্তি ও অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে দুই নেতার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেবেন।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















