ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হুতিদের অগ্রগতিতে ট্রাম্প-সালমানের সম্পর্কে টানাপোড়েন

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নতুন করে হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সম্পর্কে।

পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে তারা। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকায়ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা।

এতে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে হুতিদের অবস্থান আরো শক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, সৌদি আরবকে এখনই সরাসরি সহায়তা না করার মার্কিন সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে আরো উত্তেজনা তৈরি করছে।

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে তিনি আরো বলেন, এতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা আশা করতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

আড়ালেই থাকছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও আসন্ন মার্কিন নির্বাচন নিয়ে দোটানায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েক মাসের সামরিক অভিযানে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে।

এ অবস্থায় লোহিত সাগরে হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সহায়তা চেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অন্যতম মিত্র সৌদি আরব। তবে হুতিদের হামলার জবাবে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। সৌদিকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এসব যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে বারবার বিমান হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ করেছিল রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্পর্কে টানাপোড়েন

এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, তাতে উত্তেজনার মুহূর্তও দেখা গেছে।

সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের গোয়েন্দা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কারেন গিবসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়া থেকে সৌদি আরবের কাছে এমন বার্তা গেছে যে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লেও সব সময় সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাশে নাও দাঁড়াতে পারে।

পুরনো বিরোধে নতুন উত্তেজনা

ট্রাম্পের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল যে, অভিযানের জন্য তারা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য করা একটি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা থামিয়ে দেন ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরো হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল রিয়াদ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

হুতিরা এখন সৌদি আরবকে এমন একটি সংঘাতে ফিরিয়ে এনেছে যা থেকে বছরের পর বছর ধরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল রিয়াদ। দেশটির সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গত জুলাই মাসে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এক হুতি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, তারা শুধু সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা করবে না।

এ বিষয়ে ট্রাম্পও বলেছেন, হুতিরা মার্কিন স্বার্থে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

Tag :

হুতিদের অগ্রগতিতে ট্রাম্প-সালমানের সম্পর্কে টানাপোড়েন

আপডেট সময় ০৫:৩০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের নতুন করে হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিমান হামলার অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি আরব। তবে এখন পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এতে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সম্পর্কে।

পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালিয়েছে তারা। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু এলাকায়ও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা।

এতে বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে হুতিদের অবস্থান আরো শক্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির পরিচালক মোনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, সৌদি আরবকে এখনই সরাসরি সহায়তা না করার মার্কিন সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্কে আরো উত্তেজনা তৈরি করছে।

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে তিনি আরো বলেন, এতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা আশা করতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

আড়ালেই থাকছেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও আসন্ন মার্কিন নির্বাচন নিয়ে দোটানায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ ও বিভিন্ন স্থাপনার ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েক মাসের সামরিক অভিযানে মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে গেছে।

এ অবস্থায় লোহিত সাগরে হুতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সহায়তা চেয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির অন্যতম মিত্র সৌদি আরব। তবে হুতিদের হামলার জবাবে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। সৌদিকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের কাছে সম্ভাব্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এসব যুদ্ধবিমান সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

ফিনান্সিয়াল টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে বারবার বিমান হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ করেছিল রিয়াদ। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্পর্কে টানাপোড়েন

এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও, তাতে উত্তেজনার মুহূর্তও দেখা গেছে।

সাবেক মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের গোয়েন্দা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কারেন গিবসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়া থেকে সৌদি আরবের কাছে এমন বার্তা গেছে যে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লেও সব সময় সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাশে নাও দাঁড়াতে পারে।

পুরনো বিরোধে নতুন উত্তেজনা

ট্রাম্পের সঙ্গে মোহাম্মদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও বিভিন্ন সময়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল যে, অভিযানের জন্য তারা মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না।

এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তার জন্য করা একটি মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা থামিয়ে দেন ট্রাম্প। এই পরিকল্পনার ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে আরো হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছিল রিয়াদ।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

হুতিরা এখন সৌদি আরবকে এমন একটি সংঘাতে ফিরিয়ে এনেছে যা থেকে বছরের পর বছর ধরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছিল রিয়াদ। দেশটির সঙ্গে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গত জুলাই মাসে সৌদি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ ঘোষণা করে গোষ্ঠীটি।

এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এক হুতি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, তারা শুধু সৌদি জাহাজ লক্ষ্য করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা করবে না।

এ বিষয়ে ট্রাম্পও বলেছেন, হুতিরা মার্কিন স্বার্থে হামলা না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।