ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঝালমুড়ি বিক্রেতার বিরুদ্ধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ Logo ‘রোনালদোর মতো বয়সে ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়’ Logo হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের অবৈধ অর্থের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি Logo টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, কার্যসহকারী হাসমত বরখাস্ত Logo লক্ষ্মীপুরে মাদরাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ Logo অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড Logo জাতিসংঘের নারী নেতৃত্ব প্ল্যাটফর্মে বক্তব্য দিয়েছেন জুবাইদা রহমান Logo মসজিদে হামলা ঘিরে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে নতুন সংকট Logo চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বর্তমান সরকার কাজে লাগাচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী Logo বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা, পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত

ভারতে পারিবারিক বিবাদের কারণে স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যার পর তিন সন্তানকে জিম্মি করার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় সাত ঘণ্টা পুলিশের দীর্ঘ অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে অভিযুক্ত অরবিন্দ সিং নিহত হয়েছেন।

এ সময় অভিযুক্তের গুলিতে গুরুতর আহত তার শিশু ছেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন অরবিন্দ সিং। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতা ও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির আশায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার স্ত্রী ববিতা সিং (৩২) বাড়িতে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে পাঁচজন পুরোহিত অংশ নেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে অরবিন্দ বাড়ি ফিরে এই আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী ববিতা সিং এবং পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক (৬০) ও অখিলেশ মিশ্র (৫০) নিহত হন। বাকি তিন পুরোহিত জীবন বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

তিনটি হত্যাকাণ্ডের পর অরবিন্দ তার তিন সন্তানকে বাড়ির একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে আজমগড় জেলা পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি ঘিরে ফেলে। বারাণসী জোনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) নবীন অরোরা জানান, পুলিশ প্রথমে তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও অরবিন্দ ভেতর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অরবিন্দ নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘর থেকে জিম্মি থাকা তিন সন্তানকেই উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আজমগড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. অনিল কুমার নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকালে অভিযুক্তের এক ছেলের শরীরে গুলি পাওয়ার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরবিন্দ সিং এবং তার ছেলে—উভয়েরই মৃত্যু হয়। অরবিন্দ সিং নিজের ছেলেকে গুলি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বাকি দুই মেয়ে মানসিক আঘাত পেলেও বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অপরাধের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ঝালমুড়ি বিক্রেতার বিরুদ্ধে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ

স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যা, পুলিশের পাল্টা গুলিতে হামলাকারী নিহত

আপডেট সময় ১০:৫৮:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে পারিবারিক বিবাদের কারণে স্ত্রী ও দুই পুরোহিতকে গুলি করে হত্যার পর তিন সন্তানকে জিম্মি করার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় সাত ঘণ্টা পুলিশের দীর্ঘ অভিযানের পর নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে অভিযুক্ত অরবিন্দ সিং নিহত হয়েছেন।

এ সময় অভিযুক্তের গুলিতে গুরুতর আহত তার শিশু ছেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন অরবিন্দ সিং। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারিবারিক সহিংসতা ও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির আশায় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তার স্ত্রী ববিতা সিং (৩২) বাড়িতে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এতে পাঁচজন পুরোহিত অংশ নেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে অরবিন্দ বাড়ি ফিরে এই আয়োজনের তীব্র বিরোধিতা করেন। বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি নিজের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তার স্ত্রী ববিতা সিং এবং পুরোহিত মহেন্দ্র পাঠক (৬০) ও অখিলেশ মিশ্র (৫০) নিহত হন। বাকি তিন পুরোহিত জীবন বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

তিনটি হত্যাকাণ্ডের পর অরবিন্দ তার তিন সন্তানকে বাড়ির একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

খবর পেয়ে আজমগড় জেলা পুলিশ ও স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনটি ঘিরে ফেলে। বারাণসী জোনের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) নবীন অরোরা জানান, পুলিশ প্রথমে তাকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানালেও অরবিন্দ ভেতর থেকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অরবিন্দ নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পুনরায় গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘর থেকে জিম্মি থাকা তিন সন্তানকেই উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আজমগড়ের সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) ড. অনিল কুমার নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধারকালে অভিযুক্তের এক ছেলের শরীরে গুলি পাওয়ার প্রমাণ মেলে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরবিন্দ সিং এবং তার ছেলে—উভয়েরই মৃত্যু হয়। অরবিন্দ সিং নিজের ছেলেকে গুলি করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। বাকি দুই মেয়ে মানসিক আঘাত পেলেও বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অপরাধের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃতদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলমান রয়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ