ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মন্ত্রিসভার নতুন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি Logo নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে হেফাজতে ইসলামের অভিনন্দন Logo তুরাগ নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার Logo শপথ নিলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর Logo রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় নৌকাবাইচ উৎসব Logo নয় মাসের অভিযান শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন Logo রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের নতুন সচিব সালাহউদ্দিন নাগরী Logo মির্জা ফখরুলের শপথ ঘিরে বঙ্গভবনে প্রবেশ করছেন ৩ বাহিনীর প্রধান Logo রাজবাড়ীতে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি, দায়ীদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি Logo প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি

কালিয়াকৈরে দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হাজারো পরিবার, ডুবেছে সড়ক

দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে একটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা। তবে সেটি কেবল নামেমাত্র। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। ডুবে গেছে অসংখ্য সড়ক ও দোকানপাট। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকার ৫ নম্বর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর থেকে টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি মহল্লার বসতবাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাট মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাংশসহ ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলোও ডুবে যায়। আবাসিক কলোনিতে পানি প্রবেশ করায় বহু পরিবার রান্নাবান্না ও জীবিকা অর্জন করতে পারছে না। অনেকে ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সড়ক ডুবে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে না পারায় কয়েকটি পোশাক কারখানাও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড় এলাকায় চলাচলের প্রধান সড়ক, শতাধিক দোকানপাট, স্কুল ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। আচমকা পানি প্রবেশের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল রাজীব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভোরে বৃষ্টি শুরু হতেই আতঙ্কে পড়ে গেছি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরের দরজার সামনে পানি চলে এসেছে। ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘরবন্দি হয়ে আছি। বাজার করতে পারিনি, রান্না করার সুযোগ নেই। অফিসেও যেতে পারিনি, কারণ সব রাস্তায় কোমরসমান পানি। বছরে একাধিকবার এমন যুদ্ধ করতে হয়, অথচ কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

মিজানুর রহমান নামে এক দোকানদার জানান, ঘুম থেকে উঠে দেখি সব পানিতে ডুবে আছে। নোংরা পানি মাড়িয়ে দোকানে এসে দেখি ভেতরে অনেক মালামাল পানিতে ভিজে গেছে, এগুলো আর বিক্রির উপযোগী নেই। এর দায় পৌরসভার। আমাদের মতো বহু দোকানমালিকের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ পৌরসভা দেবে না। অথচ আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেই। সঠিক পরিকল্পনায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও খাল সংস্কার করে না, আমাদের দুঃখ-কষ্টও দেখে না।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফিজা খাতুন নামে এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, আমরা শুধু ভোটের সময় ভোট আর বছর বছর ট্যাক্স দিয়েই যাচ্ছি। বিনিময়ে পাচ্ছি এমন অসহনীয় কষ্ট। রান্নাঘর ডুবে আছে, সকাল থেকে ঘরের জিনিসপত্র টানাটানি করে কোনোরকমে পানি থেকে রক্ষা করছি। এখনো পর্যন্ত খাওয়া তো দূরের কথা, নিরাপদে একটু দাঁড়াতেও পারিনি।

মালেক মিয়া নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি এসেছিলাম। সকালে রাস্তায় বের হয়ে দেখি কোমরসমান পানি। দোকানে গিয়ে দেখি সব কাঁচামাল পানিতে ভাসছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌরসভার খালগুলো পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। আমরা কয়েকটি স্পটে ড্রেন পরিষ্কার করছি। বিভিন্ন স্থানে পানি কমতে শুরু করেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন ও খালগুলো খননের কার্যক্রম দ্রুত নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/একেএএম

Tag :

মন্ত্রিসভার নতুন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

কালিয়াকৈরে দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হাজারো পরিবার, ডুবেছে সড়ক

আপডেট সময় ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

দেশের প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে একটি গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভা। তবে সেটি কেবল নামেমাত্র। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে মাত্র দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় দুই হাজার পরিবার। ডুবে গেছে অসংখ্য সড়ক ও দোকানপাট। কোথাও কোথাও কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে পুরো এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌর এলাকার ৫ নম্বর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোর থেকে টানা দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন পল্লীবিদ্যুৎ, হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি মহল্লার বসতবাড়ি, মার্কেট ও দোকানপাট মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একাংশসহ ওয়ার্ডের প্রধান সড়কগুলোও ডুবে যায়। আবাসিক কলোনিতে পানি প্রবেশ করায় বহু পরিবার রান্নাবান্না ও জীবিকা অর্জন করতে পারছে না। অনেকে ঘর ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। সড়ক ডুবে যাওয়ায় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে না পারায় কয়েকটি পোশাক কারখানাও বন্ধ হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ডাইনকিনি, হরতকিতলা ও মাইওয়ান মোড় এলাকায় চলাচলের প্রধান সড়ক, শতাধিক দোকানপাট, স্কুল ও ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। আচমকা পানি প্রবেশের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কোনো স্থানে ডাইং কারখানার দূষিত পানি ও আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আল রাজীব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ভোরে বৃষ্টি শুরু হতেই আতঙ্কে পড়ে গেছি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরের দরজার সামনে পানি চলে এসেছে। ভয়ে পরিবার নিয়ে ঘরবন্দি হয়ে আছি। বাজার করতে পারিনি, রান্না করার সুযোগ নেই। অফিসেও যেতে পারিনি, কারণ সব রাস্তায় কোমরসমান পানি। বছরে একাধিকবার এমন যুদ্ধ করতে হয়, অথচ কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয় না।

মিজানুর রহমান নামে এক দোকানদার জানান, ঘুম থেকে উঠে দেখি সব পানিতে ডুবে আছে। নোংরা পানি মাড়িয়ে দোকানে এসে দেখি ভেতরে অনেক মালামাল পানিতে ভিজে গেছে, এগুলো আর বিক্রির উপযোগী নেই। এর দায় পৌরসভার। আমাদের মতো বহু দোকানমালিকের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ পৌরসভা দেবে না। অথচ আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স সব দেই। সঠিক পরিকল্পনায় পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও খাল সংস্কার করে না, আমাদের দুঃখ-কষ্টও দেখে না।

৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাফিজা খাতুন নামে এক নারী পোশাকশ্রমিক বলেন, আমরা শুধু ভোটের সময় ভোট আর বছর বছর ট্যাক্স দিয়েই যাচ্ছি। বিনিময়ে পাচ্ছি এমন অসহনীয় কষ্ট। রান্নাঘর ডুবে আছে, সকাল থেকে ঘরের জিনিসপত্র টানাটানি করে কোনোরকমে পানি থেকে রক্ষা করছি। এখনো পর্যন্ত খাওয়া তো দূরের কথা, নিরাপদে একটু দাঁড়াতেও পারিনি।

মালেক মিয়া নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি এসেছিলাম। সকালে রাস্তায় বের হয়ে দেখি কোমরসমান পানি। দোকানে গিয়ে দেখি সব কাঁচামাল পানিতে ভাসছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ফখরুল হোসাইন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পৌরসভার খালগুলো পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে বৃষ্টিতে পানি নিষ্কাশন হতে পারছে না। আমরা কয়েকটি স্পটে ড্রেন পরিষ্কার করছি। বিভিন্ন স্থানে পানি কমতে শুরু করেছে। ভরাট হয়ে যাওয়া ড্রেন ও খালগুলো খননের কার্যক্রম দ্রুত নেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/একেএএম