ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে ইসলামিক স্কুল ও মসজিদে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হন এবং হামলাকারী দুই কিশোর পরে আত্মহত্যা করে মারা যায়। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে এ ঘটনা ঘটে।

মসজিদটির ভেতরে শিশুদের ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, যিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হামলার পর ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে পাওয়া যায়। পরে কাছের একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয় স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের মধ্যে একজনের রেখে যাওয়া কিছু লেখা এবং আচরণ বিশ্লেষণ করে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থাপনার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে ইসলামিক স্কুল ও মসজিদে গুলি, বন্দুকধারীসহ নিহত ৫

আপডেট সময় ০৯:৫০:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে একটি ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হন এবং হামলাকারী দুই কিশোর পরে আত্মহত্যা করে মারা যায়। স্থানীয় সময় সোমবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ক্লেইরমন্ট এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে এ ঘটনা ঘটে।

মসজিদটির ভেতরে শিশুদের ইসলামী শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, যিনি হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তার ভূমিকার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হামলার পর ভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনজনকে পাওয়া যায়। পরে কাছের একটি গাড়ি থেকে ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা নিজেদের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর স্থানীয় স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে লকডাউন করা হয়। পুলিশ ও এফবিআই ঘটনাটিকে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি ‘সেমি-অটোমেটিক অস্ত্র’ থেকে প্রায় ৩০ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ৯১১-এ কল করেন এবং ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছুটির দিনগুলোতে এই মসজিদে প্রচুর ভিড় হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো যে, ঘটনাটি শুক্রবার ঘটেনি। কারণ সেদিন রাস্তায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় থাকে।’

ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোর পরিচালক ইমাম ত্বহা হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কোনো উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত জঘন্য ও আপত্তিকর। এই স্থাপনাটি একটি উপাসনালয়, কোনো যুদ্ধক্ষেত্র নয়।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সহিংস হামলায় ‘স্তম্ভিত ও আতঙ্কিত’। এটি এমন একটি জায়গা ‘যেখানে পরিবার ও শিশুরা একত্রিত হয়। প্রতিবেশীরা শান্তিতে ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপাসনা করে। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভীতি প্রদর্শন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সহ্য করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রাথমিক কিছু তথ্য পেয়েছি। আমরা এই বিষয়টি খুব জোরালোভাবে খতিয়ে দেখব।’

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীদের মধ্যে একজনের রেখে যাওয়া কিছু লেখা এবং আচরণ বিশ্লেষণ করে বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থাপনার বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি পাওয়া যায়নি।

কর্তৃপক্ষ এখনো নিহতদের নাম প্রকাশ করেনি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ