
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে ৯৬৫ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট মুনাফা করেছে, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৭৩ কোটি টাকা। বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির নিট মুনাফা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি।
বড় এই মুনাফায় ভর করে আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ (২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক) ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। আগে বছরে ২০ শতাংশ (১০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক) লভ্যাংশ দিয়েছিলো ব্যাংকটি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের ৩০৭তম সভায় ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদনের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সভায় ব্যাংকটির চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ হিসাব বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৯ টাকা ৯৮ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৪ টাকা ৯০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ১৪ পয়সায়।
আর্থিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ২০২৫ সালে ব্যাংকটির ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে মূলধন অনুপাত (সিআরএআর) ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, ২০২৪ সালে যা ছিল ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এদিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৯২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৪ টাকা ৮৪ পয়সায়।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ১৯৩ কোটি ১ লাখ টাকা। মোট শেয়ারসংখ্যা ৯৬ কোটি ৬৭ লাখ ১ হাজার ১৩৯। এর ৮৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক শূন্য ৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ