সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা জানালেন মির্জা ফখরুল কোনো ছাড় নয়, মাদক নির্মূলে বড় পদক্ষেপের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এবার নারীদের ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বৈশ্বিক বাণিজ্যে আপডেট থাকতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী দু’দেশের বন্ধুত্বকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই শার্শায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নিপীড়িতদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার : আইনমন্ত্রী ‘অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক’ আয়কর রিটার্ন না দিলে হাজির হবেন ইন্সপেক্টর দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত

অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে স্বনির্ভর হওয়ার বিকল্প নেই: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

বাংলা৭১নিউজ ঢাকা:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নতির জন্য অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানো এবং তামাকের মতো জনস্বাস্থ্যবিরোধী পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

একইসঙ্গে তামাক উৎপাদনকারী কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করে এই খাতের অবৈধ বাজার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআরের প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কর কাঠামোর বাইরে। এনবিআরে ডিজিটাইজেশনের নামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা ঠিকমতো কাজ করছে না।

বছরের পর বছর মেইনটেন্যান্সের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা আসলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আহরণের বদলে লুটপাটের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঋণ করে এডিপি তৈরি করে প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। উন্নতির নামে ফ্যাসিজম কায়েম না করে আমাদের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্যাক্স এবং বেজ প্রাইজ (ভিত্তি মূল্য) এমন জায়গায় নেওয়া দরকার যাতে এর ব্যবহার কমে। তবে এটি করতে গিয়ে কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’ 

তামাক চাষী ও বিড়ি শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে শ্রমিক ও কৃষকরা আন্ডারপেইড। তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে পণ্যের দাম কম রেখে বাজার বিস্তৃত করার যে চেষ্টা তামাক কোম্পানিগুলো করে, সরকার তা নীতিগতভাবে বন্ধ করতে সচেতন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হলে পণ্যের দাম এমনিতেই বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।’ 

তিনি আরও জানান, ‘তামাক খাতের বড় একটি সমস্যা হলো অবৈধ ব্যান্ডরোল। বিদেশ থেকে নকল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই লিকেজ বন্ধে এনবিআরকে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেন তিনি।’ 

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। তবে তা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নয়, বরং তাদের অন্তর্ভুক্ত করে।

সরকার সোশ্যাল সেফটি নেট বা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও কার্যকর করতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান নাম্বার’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত দুস্থ মানুষের তথ্য আমাদের কাছে থাকবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নীতি প্রণয়ন করা হবে।’ 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের প্রথম সচিব মো. মশিউর রহমান তামাকের সহজলভ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি একটি সহজ গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যে দেশে এক লিটার কোকের দাম ১০টি সিগারেটের চেয়ে বেশি, বুঝতে হবে সেই দেশের তামাক নীতিতে বড় ধরনের গলদ আছে। তামাক পণ্যের দাম বিদেশের তুলনায় আমাদের দেশে অনেক সস্তা।’ 

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া কঠোর কর পদক্ষেপের ফলে তামাকের সরবরাহ ৮০ বিলিয়ন শলাকা থেকে ৬২ বিলিয়নে নেমে এসেছে। এটি তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের একটি বড় সাফল্য। তবে ধোঁয়াবিহীন তামাকের (জর্দা, গুল) ক্ষেত্রে নারী ও অতি দরিদ্ররা বেশি ঝুঁকিতে থাকায় সেখানে আরও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

মশিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে ৭০ শতাংশ সিগারেট খুচরা শলাকা হিসেবে বিক্রি হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে রিটেইল বা খুচরা পর্যায়ে লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করা দরকার। ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিং সিস্টেম শুধু প্যাকেটের ওপর কাজ করে, কিন্তু খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে তা অকার্যকর হয়ে পড়ে।’ তিনি এনবিআর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বক্তারা উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে তামাক ও কার্বন ট্যাক্স থেকে জিডিপির ২ শতাংশ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি বড় রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আসন্ন বাজেটে তামাক পণ্যের মূল্যস্তর কমিয়ে করের বোঝা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের নাগালে বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করলেও জনস্বার্থ ও তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়তে তামাকের কর কাঠামো সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com