
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীতে অসময়ে ভাঙনে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত কয়েক দিনের টানা ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছে ফসলি জমি, স্কুল, কবরস্থান, ঈদগাহসহ শতাধিক বসতবাড়ী। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কয়েক শত পরিবার।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৪ ও ৫ নম্বর ওয়োডের্র পদ্মার পারে প্রায় ১০০ ফুট এলাকাজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। মুহূর্তের মধ্যে ধানের ক্ষেতসহ উর্বর জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক হাবিজল সরদারের প্রায় এক বিঘা জমির ধান ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নদীতে চলে গেছে। একইভাবে আশপাশের পেঁয়াজসহ অন্যান্য আবাদি জমিও হুমকির মুখে রয়েছে।
ভাঙনের শিকার জুলহাস সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবার একশ বিঘা জমি ছিল, এখন আমাদের ছয় ভাইয়ের ভাগে মাত্র পাঁচ বিঘা। এই জমি দিয়েই আমাদের সংসার চলে। ধানের থোঁড় বের হয়েছে। এই জমিটাও যদি নদীতে যায় তাহলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাবো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এখানে ভাঙন শুরু হয়। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়, কিন্তু স্থায়ী বাঁধ না থাকায় সমাধান হচ্ছে না। জিও ব্যগ ফেলার সময় সাময়িক বন্ধ হলেও কিছুদিন পর আবারও ভাঙন শুরু হয়। এতে একের পর এক কৃষিজমি ও বসতবাড়ী নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় পদ্মার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে শত শত বিঘা কৃষিজমি, ঘরবাড়ী ও অবকাঠামো বিলীন হয়েছে। বহু পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, এবার অসময়ে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই জিওব্যাগ ফেলে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এখানে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, ঈদগাহ ও কবরস্থান রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সবকিছু নদীতে চলে যাবে।
একই এলাকার কৃষক আবদুল হামিদ মৃধা ও মজিদ ব্যাপারী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাসই পাচ্ছি। প্রতিবার এমপি-মন্ত্রী আসে প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু কাজ হয় না। এখন আবার নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। শতাধিক বাড়ি-ঘর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকিতে রয়েছে।
এদিকে ভাঙন আতঙ্কে স্থানীয়রা নদীর পারে ভিড় করছেন। অনেক কৃষক কাঁচা পাট কেটে নিচ্ছেন, কেউ কেউ দ্রুত ফসল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভাঙনের সত্যতা নিশ্চিত করে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, অসময়ে ভাঙনের কারণে ফসলের বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োাজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান জানান, আমরা ইতোমধ্যে একটি টিম সেখানে পাঠিয়েছি। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে স্কুল, মসজিদ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস