
ভবানীপুর বিধানসভা আসন থেকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বুধবার স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টার দিকে তিনি এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এ সময় তিনি কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে ভবনে যান। তার সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, তৃণমূলের কাউন্সিলার ও মমতার আত্মীয় কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমাত হাকিম, কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম, তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলারসহ অনেকে।
নেত্রীকে স্বাগত জানাতে রাস্তার দুই পাশে ছিল অসংখ্য মানুষের জমায়েত। তারা কেউ হাত তুলে, কেউ স্লোগান দিয়ে মমতাকে অভিনন্দন জানান। কেউ আবার মোবাইলে তাদের প্রিয় নেত্রীর ছবি ফ্রেমবন্দি করেন। উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশ্যে মমতাকেও কখনো হাত নাড়তে, কখনো হাতজোড় করে নমস্কার জানাতে দেখা যায়। তৃণমূল নেত্রীর এই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ঘিরে আলিপুরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রস্তাবক হিসেবে মমতার সঙ্গে ছিলেন সমাজের বিভিন্ন ধর্মের কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে ছিলেন ইসমাত হাকিম, তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলার বাবলু সিং এবং চিত্র পরিচালক নিশপাল সিং রানে।
মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে সাড়ে ১১টার দিকে তিনি সার্ভে বিল্ডিং থেকে বাইরে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘আমি ৩৬৫ দিনই এখানে থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-বর্ণ-আন্দোলন সবকিছুই ভবানীপুরকে ঘিরে। ভবানীপুরের মানুষদের আমার ধন্যবাদ, নমস্কার, আমার সালাম। আমি চাই, ভবানীপুর কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গে ২৯৪টা কেন্দ্রেই আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়া ফুল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানাব।’
এরপর সেখান থেকে আবার হেঁটেই তিনি বাড়িতে ফেরেন। পরে সেখান থেকে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে হুগলির উদ্দেশ্যে চলে যান বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রথম পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। সেবার এই ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জি। এরপর ২০১৬ সালেও ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের বদলে তিনি নন্দীগ্রাম আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন।
বাংলা৭১নিউজ/এবি