
আগামী ২১ মে-এর মধ্যে অর্থাৎ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটা খুবই আলোচিত ইস্যু হচ্ছে হামের নতুন করে প্রাদুর্ভাব। টিকাজনিত যে সংকট হয়েছিল সেটা আসলে আমাদের উপর এসে পড়েছে। এটার মধ্যে যে সমস্যা ছিল সেটা আসলে আগের সরকারের সময়ে ঘটেছে। আমাদের সরকার এসে আমরা খুব সিরিয়াসলি চেষ্টা করছি এটা ট্যাকেল করার জন্য। এটাকে ফাইট করার জন্য।
বর্তমানে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে টিকা দেওয়া হবে। ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে টিকা দেওয়া হবে।
ধাপে ধাপে হবে টিকা দেওয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর রোগের পরিস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির ভিত্তিতে ধীরে ধীরে সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে। মূল লক্ষ্য হবে ২১ মে-এর মধ্যে অর্থাৎ আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, হাম সংক্রামক রোগ। সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটা একবার ছোঁয়াচেও, কাছাকাছি থাকলেও কারো এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই আইসোলেশন অবশ্যই, সেটা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এরকম একটা ইমারজেন্সিতে সেটাই করার কথা ছিল। এছাড়া জেলা উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা শুরুতে বলেছি যে এটা আমাদের অবহেলা বা আমাদের সংকট না। কিন্তু খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার হচ্ছে আমাদের শিশুরা মৃত্যুবরণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ যথেষ্ট না।
আমরা বুঝি এবং আমরা ভবিষ্যতে যাতে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি না হয়, আমাদের গাফিলতির কারণে যাতে কোনো পরিস্থিতি না হয় আমরা সেই চেষ্টা সর্বোচ্চভাবে করব। আমি নিজে একজন ডাক্তার। আমি জানি এটা অত্যন্ত প্রিভেন্টেবল একটা ডিজিজ। সেই ডিজিজে যখন শিশুরা মারা যায় খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার।
তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধি করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল অনুসরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা অতি শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু হয়েছে, যার ৮০ শতাংশ হবেন নারী।
বাংলা৭১নিউজ/এবি