
রাজশাহী দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীতে সম্প্রতি জেগে উঠেছে বেশ কয়েকটি নতুন চর। পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নগরীর শ্রীরামপুর, বুলনপুর, তালাইমারী, কাটাখালী ও পবা উপজেলার বিভিন্ন অংশে এসব চর এখন দৃশ্যমান।
স্থানীয়রা বলছেন, গত কয়েক বছরে নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং উজানের নেমে আসা পলির কারণে এসব চর জাগছে। আগে যেখানে ছিল প্রবল স্রোত, এখন সেখানে হাঁটাচলার মতো শক্ত মাটির স্তর তৈরি হয়েছে।
নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় নৌ চলাচলে দেখা দিয়েছে প্রতিবন্ধকতা। শুষ্ক মৌসুমে মাঝনদীতে বালুচর থাকায় ছোট নৌযান চলাচলেও ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর এলাকার হোসনে আরা পদ্মা বলেন, জন্মের পর কোনো দিন শ্রীরামপুর এলাকায় পদ্মা নদীতে চর জাগতে দেখিনি। এবার শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই চর জেগেছে।
নদী বিশেষজ্ঞ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, এটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। অপরিকল্পিতভাবে চর দখল, জরিপ না করে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে এমন চর জেগেছে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, নদীর এ পরিবর্তন জলজ প্রাণীর আবাসস্থলেও প্রভাব ফেলতে পারে। মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংকুচিত হলে তা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। রাজশাহী পরিবেশ বিজ্ঞান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, নদী খননের উদ্যোগ না নিলে পদ্মা একটা সময় নালায় পরিণত হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পদ্মার নাব্য ঠিক রাখতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম চালু রাখার পরিকল্পনা আছে। পাশাপাশি চরগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথাও ভাবা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম অঙ্কুর জানান, পদ্মার বুকে জেগে ওঠা নতুন চর নদী ব্যবস্থাপনার বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসছে।
বাংলা৭১নিউজ/এবি