শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত ১০ রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির ফ্যাসিবাদী শাসনে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নেমেছিল : রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা যেন সংসদকে কলুষিত করতে না পারে : নাহিদ সংসদের দর্শকসারিতে ড. ইউনূস-জুবাইদা-জাইমা খালেদা জিয়া মানেই আপসহীন গণতন্ত্র আর সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী সংসদ হবে দেশের সব সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু : প্রধানমন্ত্রী সংসদ যেন চরিত্রহননের কেন্দ্র না হয়: বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সংসদে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি

শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান, চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রস্তুত

বাংলা৭১নিউজ, ঢাকা
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কড়া বার্তার পরেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটতে থাকে। একের পর এক খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্যের লড়াই ও প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের সব ইউনিটকে পাঠানো হয়েছে কঠোর বার্তা। জনমনে স্বস্তি ফেরাতে প্রত্যেক পাড়া-মহল্লার চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, ও মাদক কারবারিদের তালিকা প্রায় প্রস্তুত করেছে সংশ্লিষ্টরা। এসব তালিকায় সক্রিয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালী অপরাধীদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে।

এই তালিকার ভিত্তিতে ছিঁচকে অপরাধীদের সঙ্গে রাঘববোয়ালরাও যাতে আইনের আওতায় আসে- সেজন্য দ্রুতই দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে পুলিশের বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান। যেকোনো মূল্যে এই অভিযান সফল করতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট কোনো নামে নয়-নিয়মিত অভিযানকেই আরও ত্বরান্বিত করে তালিকাভুক্ত ওই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ব্লক রেইড দেওয়া হতে পারে। পুলিশের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সারা দেশের সব থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা ইউনিটগুলো চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও জামিনে থাকা অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করছে।

এ ক্ষেত্রে অপরাধীদের সম্পর্কে যতটা সম্ভব বিস্তারিত তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। হালনাগাদ করা হচ্ছে অতীতের মামলার তথ্য। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় চাঁদাবাজির আধিক্য বেশি, সেসব এলাকার চাঁদাবাজ ও অস্ত্রবাজদের তালিকাও প্রায় প্রস্তুত। জামিনে থাকা অপরাধীদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তারা নতুন করে অপরাধ কার্যক্রমে জড়িয়েছেন কি না, সেই গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। অপরাধ করেও এলাকায় সদর্পে ঘুরছেন এমন লোকদের তালিকাও থানা থেকে পাঠানো হচ্ছে ঊর্ধ্বতন মহলে। গ্রিন সিগন্যাল পেলে ওই হেভিওয়েট অপরাধীদের গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সারা দেশেই বিভিন্ন অপরাধীরা তৎপর হয়ে উঠেছে এবং মাদকে সয়লাব হওয়ার তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসছে। এজন্য সব ইউনিটকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে অপরাধে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, আইনের আওতায় আনতে হবে। কারও বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে প্রয়োজনে ডিটেনশনে (বিশেষ ক্ষমতা আইনে) গ্রেপ্তার করতে হবে।

কোনো অবস্থাতেই অপরাধী যেন বাইরে না থাকে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পেলেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক পুলিশ সদস্যই চাঁদাবাজিতে জড়িয়েছেন বলে তথ্য আসছে। বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিতে জড়িত এসব পুলিশ সদস্যের তালিকা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পেলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ যেসব এলাকায় বেশি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে সেসব জায়গা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রেড জোনসংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রয়োজনে স্পেশাল ইউনিটগুলোর সহযোগিতা নিয়ে অভিযানে যাবে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাইকারী, ডাকাতি, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টিসহ মৌসুমি অপরাধীদের তৎপরতা দমনে কাজ করছে টহল টিমের সদস্যরা। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সম্প্রতি ডিএমপি সদর দপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগি আসামিদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধ দমনে সরকারের সদিচ্ছাকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এটাও সত্য কঠোর বার্তার পরেও বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রশ্রয় না দিয়ে কঠোর অ্যাকশনে যেতে হবে। অনেক সময় প্রশাসনের সঙ্গে অপরাধীদের সখ্য থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

অপরাধীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা প্রশাসনের লোকদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় অতীতের মতো এই উদ্যোগও ব্যর্থ হতে পারে। সুতরাং মানসিক স্বস্তির জন্য নয়, অভিযান হতে হবে সরকারের সদিচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বলে।

এরই অংশ হিসেবে পুলিশের সব ইউনিটকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে সব ধরনের অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোনো নির্দিষ্ট ট্যাগ বা কথাকথিত নামে নয়, অভিযানের মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com