সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ফের বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৩০ মিয়ানমার সীমান্তের ভূমিকম্পে কাঁপল চট্টগ্রাম অঞ্চল দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার নতুন অর্থবছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্টাডি শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ভিক্ষুকের এমএফএস অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার প্রতারণা, ফাঁসলেন দম্পতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

ভ্রাম্যমাণ ভিক্ষুকদের সরকারি রেশন ও ভাতার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নামে খোলা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অভিনব প্রতারণা করে আসছিল এক প্রতারক দম্পতি। দীর্ঘদিন আড়ালে থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় সিআইডির হাতে ধরা পড়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সিআইডির একটি দল এলআইসি শাখার বিশ্লেষণ সহায়তায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী মেট্রোপলিটনের পবা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোছা. সুলতানা খাতুন (৪৫) ও তার স্বামী মো. মোবারক হোসেনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণায় অর্জিত ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, অপরাধে ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল ফোন ও ৪টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, বাড়িতে ভিক্ষুক এলে তাদের সরকারি সহায়তা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) দম্পতির কাছে জমা রাখতে বাধ্য করা হতো।

পরে সেই সিম ব্যবহার করে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ফোন দেওয়া হতো। কৌশলে জানানো হতো যে, তার মা, মেয়ে বা স্ত্রী দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, জরুরি চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক অর্থ প্রয়োজন।

আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা যাচাই-বাছাই না করেই অর্থ পাঠালে প্রতারকরা আগে সংগৃহীত ভিক্ষুকের এমএফএস নম্বর দিতো। টাকা হাতে পেয়েই ব্যবহৃত সিম ও মোবাইল নষ্ট করে ফেলতো তারা, যাতে শনাক্ত করা না যায়। সন্দেহ এড়াতে কখনও ঠান্ডা-সর্দি বা দুর্ঘটনার অজুহাতে কণ্ঠ বদলের ব্যাখ্যাও দিত।

একটি মামলার এজহারের তথ্য তুলে ধরে জসীম উদ্দিন খান বলেন, সুইডেন প্রবাসী বোনের পরিচয়ে ফোন করে এক ভুক্তভোগীর মায়ের কাছ থেকে ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে প্রকৃত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা ধরা পড়লে গোমস্তাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

সিআইডির প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর শনাক্তের মাধ্যমে দম্পতির অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অসংখ্য ব্যক্তির সঙ্গে একই কৌশলে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তারদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রতারণা চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিচিত নম্বর থেকে দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার খবর পেলে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠানোর আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া।

বাংলা৭১নিউজ/এবি

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com