
নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে এবার পানি দেরিতে নামায় হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধানের আবাদ বিলম্বিত হয়েছে। পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহও আবাদে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। দেরিতে রোপণ ও বাড়তি খরচে চাষাবাদ করায় ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, উৎপাদন খরচ কমানো গেলে দামের বিষয়ে সমস্যা হবে না।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার মদন উপজেলা, মোহনগঞ্জ উপজেলা ও খালিয়াজুরী উপজেলা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত। এছাড়া জেলার আরও ছয়টি উপজেলায় আংশিক হাওর রয়েছে। এসব এলাকায় একমাত্র ফসল বোরো ধান। এই ফসলের ওপরই জেলার অধিকাংশ কৃষকের জীবিকা নির্ভরশীল।
প্রতিবছরের মতো এবারও শঙ্কা নিয়ে কৃষকরা আবাদ করেছেন। তবে নিচু এলাকার পানি দেরিতে নামা এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে আবাদ পিছিয়েছে। কেউ কেউ আগাম জাতের ধান রোপণ করায় বর্ষার আগেই ফলন পাওয়ার আশা করছেন। অন্যদিকে অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, খাল-বিলে পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না, ফলে আবাদ বিলম্বিত হয়।
বোরো মৌসুমে সেচ, সার ও শ্রমিকের খরচ বেশি হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে কষ্টের ফসল থেকে তেমন লাভ হবে না। তবুও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হওয়ায় তারা ধান চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রোয়াইল হাওর এলাকায় জমিতে কাজ করার সময় কৃষক শহীদুল ইসলাম ও খোকন মিয়া বলেন, হাওরের বাঁধ নিয়ে চিন্তা না করে নদী-খাল খনন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনলে পানি আসা-যাওয়ার স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকবে। এতে সময়মতো পানি নেমে যাবে এবং পৌষ মাসেই আবাদ শেষ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নদী-খালে পানি থাকলে সেচের জন্য বিদ্যুৎ খরচও কমবে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, জেলায় এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে ১ লাখ ১৭ হাজার হেক্টরে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে রয়েছে ৪২ হাজার হেক্টর। তিনি জানান, পানি ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও হাওরে শতভাগ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে।
ধানের ন্যায্য মূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এটি নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলা৭১নিউজ/এবি