
চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থায় রোজার পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে বিঘ্ন হওয়ার উদ্বেগ জানিয়েছেন আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন রমজানের পণ্য সরবরাহে। পাশাপাশি পণ্য খালাস না করতে পারায় বিলম্ব মাশুলের কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। এর প্রভাব পড়বে পণ্যের দামেও।
আমদানিকারকরা সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিকরা। গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা এবং মঙ্গলবার থেকে টানা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির প্রভাবে কার্যত দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের জেটি, টার্মিনাল, শেড, ইয়ার্ডে টানা অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা পণ্যের ৯৭ শতাংশ দেশে প্রবেশ করে।
এ প্রসঙ্গে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) উপ-মহাব্যবস্থাপক তসলিম শাহরিয়ার বলেন, দেশের একমাত্র বন্দরে এমন অচলাবস্থা সার্বিক পণ্য আমদানিতে প্রভাব ফেলবে। বন্দরে আমাদের আমদানি পণ্যের কনটেইনার আছে, সেগুলো খালাস হচ্ছে না, ড্যামারেজ আসবে।
তিনি বলেন, রোজার অনেক পণ্য এসেছে। সেগুলো সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব বাজারে পড়বে।
আরেক খাদ্যশস্য আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, শবে বরাতের ছুটি, সামনে নির্বাচন ও সে সময় তিন দিনের ছুটি রয়েছে। এর পরপরই শুরু হবে রমজান। এরমধ্যে এ কর্মবিরতিতে পণ্য কীভাবে খালাস হবে—এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। অনেক আমদানিকারকের পণ্য এখন বন্দরে আটকা।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার দিকে নিচ্ছে। যা আরও দীর্ঘমেয়াদি হলে খুব সমস্যা তৈরি করবে। এজন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, লজিস্টিকস বা সরবরাহ খাত বিঘ্নিত হলে কিংবা বন্দরে দীর্ঘ অচলাবস্থা তৈরি হলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের তুলনায় আমাদের বন্দরের সক্ষমতা ও দক্ষতা এখনো অনেক কম। সে অবস্থায় অচলাবস্থা কাম্য নয়।
শনিবার থেকে আংশিক কর্মবিরতি শুরু হলেও মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও শ্রমিক দল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক ও শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, সরকার যতক্ষণ ইজারা প্রক্রিয়া থেকে ফিরে না আসবে ততক্ষণ এ কর্মসূচি চলবে। বন্দরের সর্বস্তরের কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মবিরতিতে সাড়া দিয়েছেন।
এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, জেটিতে জাহাজ আনা নেওয়া, অফডক থেকে কনটেইনার আনা-নেওয়া, বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য খালাস স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু পণ্য বন্দর থেকে খালাস হচ্ছে না।
বাংলা৭১নিউজ/এলিস