রাজনীতিবিদের উদ্দেশ্য সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, ‘বিনা বিচারে মাসের পর মাস লোকজনকে আটকে রাখবেন না। মধ্যরাতে লোকজনকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে যাবেন না। এই অঙ্গীকারগুলো আপনারা করুন। তাহলেই আমরা বিশ্বাস করব, পরিবর্তন আসবে।’
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ‘গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৫’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথাগুলো বলেন।
সারা হোসেন বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু একটি দল বা মতাদর্শের মানুষ নয়, বরং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ। এখানে রাজনীতিবিদেরাও এসেছেন। তাদের কাছ থেকে এই অঙ্গীকার পেতে চাই, তারা একটি ভিন্ন ধরনের ভবিষ্যৎ দেখাবেন, যেখানে গুম-খুন করবেন না। পাশাপাশি কোনো ধরনের মিথ্যা মামলা দেবেন না।
সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং লাখ লাখ মানুষ মিথ্যা মামলায় জর্জরিত হয়েছেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করব। একই সঙ্গে গুম ও শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াব।
ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার মৃত্যু সনদ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এখনো নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা উচিত, কারণ এসব মামলায় ভুক্তভোগীদের সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে। নতুন খসড়া অধ্যাদেশে গুমের সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়নি। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধ করার পরিবর্তে রক্ষা করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। কেবল সর্বোচ্চ শাস্তি (যেমন মৃত্যুদণ্ড) নির্ধারণ করলেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না; বরং একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- গুম কমিশনের সদস্য নূর খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, গুম কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস প্রমুখ।
বাংলা৭১নিউজ/এসএকে