সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সর্বোচ্চ দুর্নীতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  ফের বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুদের টাকা নিয়ে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, নিহত ১, আহত ৩০ মিয়ানমার সীমান্তের ভূমিকম্পে কাঁপল চট্টগ্রাম অঞ্চল দরিদ্রদের জন্য এক লাখ ফ্ল্যাট বানাবে সরকার নতুন অর্থবছরই তিস্তা মহাপরিকল্পনার স্টাডি শেষ করে বাস্তবায়ন শুরু ইউরোপজুড়ে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে ১ হাজার মানুষের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে জলবায়ু প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

‘আমরা থানা পুড়িয়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’— বৈষম্যবিরোধী নেতা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৯ বার পড়া হয়েছে

‘আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’—এমন হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে প্রকাশ্যে বাগবিতণ্ডায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। থানার ভেতরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ থানায়। পরে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, থানার ভেতরে ওসির সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে অতীতের সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দেন।

ভিডিওতে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভমেন্টকে রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছেন তো কী হয়েছে? আমাদের এইখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানাকে পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।’

মাহদীর এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ছাত্রলীগ কর্মী এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় গিয়ে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়। পুলিশ প্রথমে তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদী হাসানের তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে চাপের মুখে পুলিশ এনামুল হাসান নয়নকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

হবিগঞ্জ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, মাহদী হাসানের এই বক্তব্য ভবিষ্যতে এ ঘটনায় মামলা হলে তা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হিসেবে অপরাধের প্রমাণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, তিনি রাগান্বিত অবস্থায় কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’-এর কারণে ওই বক্তব্য বেরিয়ে গেছে। পরে তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, তিনি ভিডিওটি দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল—এমন ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দেখান। তখন থানার ভেতরে কথাবার্তা হয় এবং সেই সময়ের একটি ভিডিও তিনি দেখেছেন।

আটক ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, নয়ন একসময় ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে মনে হয়, তবে বর্তমানে তিনি ছাত্রলীগে নেই।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com