শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন

অস্ত্র সমর্পণের সীমা শেষ, আবারও কি শুরু হচ্ছে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধ?

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

লেবাননে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণের চূড়ান্ত সময়সীমা পার হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটিকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল বৈরুত। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। 

একদিকে লেবানন সরকার ও সেনাবাহিনী নিরস্ত্রকরণ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ করার দাবি জানালেও হিজবুল্লাহ সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনোভাবেই অস্ত্র ত্যাগ করবে না।

লেবানন মন্ত্রিসভার দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল সীমান্ত থেকে লিটানি নদী পর্যন্ত অঞ্চলকে হিজবুল্লাহর প্রভাবমুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই সময়সীমা শেষ হতে চললেও বাস্তবে কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।

হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, যখন ইসরায়েল নিয়মিত আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে এবং ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে, তখন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলা আদতে আমেরিকার সাজানো একটি ইজরায়েলি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। তিনি স্পষ্ট করেছেন, যতদিন ইসরায়েলি সেনারা লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করবে, ততদিন হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। লিটানি নদীর উত্তরে এবং খোদ বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এমনকি সিডনের মতো উপকূলীয় শহরে লেবাননের সরকারি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ইসরায়েলি ড্রোন ও নজরদারি বিমানের শব্দ এখন লেবাননের মানুষের নিত্যদিনের আতঙ্ক। মারওয়াহিনের মতো সীমান্ত এলাকাগুলোতে ইসরায়েল যেভাবে ঘরবাড়ি ধ্বংস করছে এবং পুনর্নির্মাণে বাধা দিচ্ছে, তাকে অনেক বিশ্লেষক জাতিগত নিধনযজ্ঞের সঙ্গে তুলনা করছেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। ফ্লোরিডায় ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হিজবুল্লাহর সমালোচনা করে নতুন যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। আমেরিকা লেবানন সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহ করলেও তা শুধুমাত্র হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের জন্য, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য নয় এমন মন্তব্য খোদ মার্কিন দূতের মুখ থেকেই শোনা গেছে।

ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে লেবাননের রাজনীতিও উত্তপ্ত। বিরোধীদের দাবি, হিজবুল্লাহর অস্ত্র ইসরায়েলকে দমানোর বদলে উল্টো হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর সমর্থকদের যুক্তি, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী না থাকলে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন দখল করে বসতি গড়ত।

সব মিলিয়ে, হিজবুল্লাহর এই অনমনীয় অবস্থান এবং ইজরায়েলের ক্রমাগত হামলার ফলে দেশটিতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে। সেনাবাহিনী যদি জোর করে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে, তবে লেবানন এক মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে ধূলিসাৎ করে দেবে।

সূত্র: এনডিটিভি

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com