মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ ইসির স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভাঙল সব রেকর্ড নির্বাচনে যেন আর ডাকাতি না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা হাসিনা-জয়সহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের এলপিজি আমদানির চিন্তা করছে সরকার: জ্বালানি উপদেষ্টা ফরিদপুরে ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপে থাকা দুই ভাইসহ নিহত ৩ মোস্তাফিজকে বাদ দিয়ে ভারতে খেলতে যাওয়ার প্রস্তাব আইসিসির সিলেট থেকে শুরু, আরও যেসব জেলায় যাবেন তারেক রহমান গণভোট ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণ করবে : আলী রিয়াজ নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি মোতায়েন থাকবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দাদির কোলে ছবি দিয়ে জাইমার আবেগঘন পোস্ট

বাংলা৭১নিউজ,ডেস্ক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর বাবার সঙ্গে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা। যখন বাবার সঙ্গে জাইমা যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন তখন তার বয়স ছিলো অনেক কম। তবে পরিবারের অন্যতম অভিভাবক দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার অনেক স্মৃতির কথা এখনও তার স্মরণে আছে। দেশে ফেরার প্রাক্কালে ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে জাইমা রহমান তা তুলে ধরেছেন।

একইসঙ্গে জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য নিজের অবস্থান থেকে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন জাইমা রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) এসব স্মৃতিচারণ করে তিনি তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।

ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান বলেন, ‘দাদুকে নিয়ে আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলোর একটি হলো, পরিবারকে আগলে রাখা একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি কতটা মমতাময়ী ছিলেন। আমার বয়স তখন এগারো। আমাদের স্কুলের ফুটবল টিম একটা টুর্নামেন্ট জিতেছিল, আর আমি মেডেল পেয়েছিলাম। আম্মু আমাকে সরাসরি দাদু’র অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন, আমি যেন নিজেই দাদুকে আমার বিজয়ের গল্পটা বলতে পারি; তাঁকে আমার বিজয়ের মেডেলটা দেখতে পারি। আমি খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে গোলকিপার হিসেবে কী-কী করেছি, সেটা বলছিলাম; আরও স্পষ্ট টের পাচ্ছিলাম, দাদু প্রচণ্ড মনোযোগ নিয়ে আমাকে শুনছেন। তিনি এতটাই গর্বিত হয়েছিলেন যে, পরে সেই গল্পটা তিনি অন্যদের কাছেও বলতেন।’

জাইমা রহমান লিখেছেন, ‘আমি সব সময়ই জানতাম, আমার দাদু’র কাঁধে একটা দেশের দায়িত্ব। তবুও আমার স্মৃতিতে দাদু হলেন পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক। লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমার আর আমার কাজিনদের কাছে তিনি ছিলেন ‘দাদু’। আমাদের ‘দাদু’। তিনি সব সময় আমাদের খেয়াল রাখতেন, আমাদের জন্য সময় বের করতেন, আর যেসব মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সেগুলোতে আমাদের সাহস দিতেন, উজ্জীবিত করতেন। এই ছোট-ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই আমি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পাই। সেটি হলো, নম্রতা, আন্তরিকতা আর মন দিয়ে শোনার মানসিকতা।’

তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বাইরে কাটানো সতেরোটা বছর আমার জীবন অনেকভাবে বদলে দিয়েছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার শিকড় ভুলে যাইনি। কারণ, আমাদের সত্তার যে ভিত্তি, আমাদের যে সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ; সেটিই আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে, পরিচয় বহন করে। প্রবাসে থাকা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের অনেক বাংলাদেশির মতো আমিও নিজ দেশের বাইরে, ভিন্ন দেশে অনেকগুলো বছর কাটিয়েছি। লন্ডনের দিনগুলো আমাকে বাস্তববাদী করেছে, একটা বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। যদিও আমার হৃদয়-মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল।’

জাইমা রহমান লিখেছেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আমাকে শৃঙ্খলা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান শিখিয়েছে। তবে মানুষের সঙ্গে কাজ করা আমাকে শিখিয়েছে আরও অনেক বেশি; শিখিয়েছে দায়িত্বশীল হতে, বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়াতে। আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে। প্রত্যেক ক্লায়েন্ট, প্রতিটি মামলা, প্রতিটি মানুষের সমস্যা, কারও না কারও জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। যারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অবহেলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বিশ্বাস দিতে হয় যে, তাঁদের বিষয়টি দেখা হচ্ছে, শোনা হচ্ছে, সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারও জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা যে শিক্ষাটা দেয়, সেটা কোনো ক্লাসরুম দিতে পারে না। এই প্রতিটা ধাপ আমাকে ভাবতে শিখিয়েছে, মানুষ হিসেবে কেমন হতে চাই।’

নিজের প্রয়াত দাদা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে জাইমা রহমান লিখেছেন, ‘আমি আমার ‘দাদা’কে কখনো দেখিনি। কিন্তু তাঁর সততা আর দেশপ্রেমের কথা সব সময় শুনে এসেছি। ‘দাদু’ আর ‘আব্বু’ সেই আদর্শটাই বয়ে নিয়ে চলেছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং ৫ আগস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। অধিকাংশ সময় বলেছি কম, বরং শুনেছি বেশি। ছোট-ছোট কাজের মাধ্যমে তাঁদের বোঝা একটু হালকা করার চেষ্টা করেছি।’

দেশে ফেরার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে, নিজের অভিজ্ঞতায় প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে চাই; মানুষের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে চাই। যেভাবে এগুনো দরকার, আমি চাই বাংলাদেশ আবারও সেভাবে সামনে এগিয়ে যাক, গর্জে উঠুক।’

তিনি লিখেছেন, ‘আমি জানি, আমার পরিবারকে ঘিরে দেশের জনগণের কৌতূহল রয়েছে, প্রত্যাশা রয়েছে। সেটি কখনো আশার, কখনো প্রশ্নের। সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও রয়েছে। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ আমরা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনুভব করি; পরিবারে, বন্ধুত্বে, সমাজে। সংক্ষেপে, আমার নিজের ভাষায়, এই হলো আমার গল্প। আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা নিজস্ব গল্প আছে। এই গল্পগুলোকে ধারণ করে, আমরা সবাই হয়তো একসঙ্গে বাকি পথটা হাঁটতে পারি।’

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2018-2025
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com