শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায়, দুই দিন সূর্যের দেখা নেই

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

চুয়াডাঙ্গায় টানা দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে পুরো জেলা। এর সঙ্গে মৃদু বাতাস যোগ হওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি দেশে এদিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

জেলার আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। কুয়াশার কারণে আকাশ ধূসর আকার ধারণ করেছে। এদিন এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানান জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান।

তবে আবহাওয়া অফিস বলছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরের মধ্যে সূর্যের দেখা মিলতে পারে। যদিও সকাল ৯টার পর কয়েক মিনিটের জন্য সূর্য উঁকি দিলেও তা মিলিয়ে গেছে।

শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খড়, পুরোনো কাপড় জড়িয়ে কিংবা খোলা স্থানে আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে।

এদিকে শীতের প্রভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঈদগাহপাড়ার রাজমিস্ত্রি কালাম হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার সময় কাজে এসেছি। তীব্র ঠান্ডা ও বাতাসের কারণে শরীর কাঁপছে। তবুও পেটের দায়ে কাজে আসতে হচ্ছে। একদিন কাজ না করলে খাবার জোটে না।

রিকশাচালক সাইদুর রহমান বলেন, তীব্র শীতে মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, আয়ও কমে গেছে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দুর্ভোগও বেড়েছে।

দিনমজুর সাত্তার আলী বলেন, সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত বেশি পড়ছে। সকালে কাজে যাওয়া খুব কষ্টকর। তবুও সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বের হতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের আলো প্রায় নেই বললেই চলে। তবে আজ সূর্যের দেখা মিলতে পারে।

এছাড়া মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে শৈত্য প্রবাহের সম্ভাবনা আছে। আর সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/এসএস

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর
© All rights reserved © 2015-2026
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com