পাকিস্তানের আলোচিত টিকটকার আয়েশা শামসু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়। মেয়ের খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সামাজিকভাবে সম্মানহানীর নামে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের ট্যাক্সিলা এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। নিহত আয়েশা ‘শামসু বিবি’ নামে বেশ পরিচিত ছিলেন। টিকটক অ্যাকাউন্টে তাঁর প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিলেন। চার বছর ধরে তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট একটি গাড়িতে করে ছোট বোন ও ভাইকে নিয়ে যাওয়ার সময় আয়েশার ওপর হামলা হয়। ট্যাক্সিলার একটি পেট্রল পাম্পের কাছে পৌঁছানোর পর মোটরসাইকেলে আসা দুই দুষ্কৃতকারী তাঁদের গাড়ির গতি রোধ করে। এরপর আয়েশার গলায় গুলি চালায় হামলাকারীরা। গুলিতে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর ছোট বোন আহত হন।
ঘটনার দিন এটিকে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ বলে দাবি করা হয়েছিল। নিহতের বাবা ফজল নিজে বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে জানিয়েছিলেন, কিছু লোক তাঁর মেয়েকে টাকা ধার দেওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যার হুমকি দিচ্ছিল।
তবে তদন্ত এগোতে রহস্যের জাল খুলতে শুরু করে। রাওয়ালপিন্ডি পুলিশের বিশেষ দল ১০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে ঘটনার তদন্ত চালায়। এতে মামলার মোড় সম্পূর্ণ ঘুরে যায়। সিসিটিভি ভিডিও পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পায়, মামলার বাদী অর্থাৎ আয়েশার বাবা ফজলের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তদন্তে প্রাপ্ত প্রমাণের মিল নেই।
পুলিশের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে আয়েশার টিকটক করা ও তারকাখ্যাতি অর্জন পছন্দ করত না তাঁর পরিবার। পারিবারিক মানসম্মানের কথা চিন্তা করে পরিবারের লোকজন তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
আয়েশা হত্যার অভিযোগে এখন পর্যন্ত পুলিশ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন নিহতের বাবা ফজল সাহিব, ভাই বশির, বাবার চাচা রোজি খান, চাচাতো ভাই আহসান এবং আহসানের ছেলে ইয়াসিন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সন্দেহে আরও দুজনকে হেফাজতে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























