ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত লাঞ্চ বিরতিতে গেছে ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে। টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা আপাতত এড়াতে পারলেও ম্যাকাই টেস্টের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল রীতিমতো হতাশাজনক।

ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয়ের পর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেই মিচেল স্টার্কের গতির সামনে তছনছ হয়ে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ।

নিজের প্রথম ২২ বলের মধ্যেই ৫ উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ যখন মাত্র ১২ রান, তখনই পড়ে গেছে ৫ উইকেট। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচায় ফাইফারের দেখা পান স্টার্ক।

এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল স্টার্কের। এবারও শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর আধিপত্য দেখিয়েছেন তিনি।

ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে বিদায় করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই ফেরেন রানের খাতা না খুলে।

এরপর মুমিনুল হককে ৯ রানে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক। লিটন দাসও টিকতে পারেননি। মাত্র ৫ বল খেলে ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশের সামনে তখন টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। সেই শঙ্কা কাটলেও নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড এড়াতে এখনও লড়াই করতে হচ্ছে সফরকারীদের।

মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ হয়েছেন। ৪২ বলে মাত্র ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২১ রানে ৬ উইকেট।

এরপর সপ্তম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৪ রানের জুটিতে লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত আছেন।

একাদশে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম ওয়ানডে সিরিজে ৬ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি পেসার জায়গা পেয়েছেন ইবাদত হোসেনের পরিবর্তে।

বাংলাদেশ একাদশ
সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ
ট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৮:৫৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা সফরকারীরা শেষ পর্যন্ত লাঞ্চ বিরতিতে গেছে ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান নিয়ে। টেস্টে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা আপাতত এড়াতে পারলেও ম্যাকাই টেস্টের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল রীতিমতো হতাশাজনক।

ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয়ের পর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ম্যাকাই টেস্টে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেই মিচেল স্টার্কের গতির সামনে তছনছ হয়ে যায় সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ।

নিজের প্রথম ২২ বলের মধ্যেই ৫ উইকেট তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার। ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ যখন মাত্র ১২ রান, তখনই পড়ে গেছে ৫ উইকেট। প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৪ রান খরচায় ফাইফারের দেখা পান স্টার্ক।

এর আগে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল স্টার্কের। এবারও শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর আধিপত্য দেখিয়েছেন তিনি।

ইনিংসের প্রথম বলেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে ফেরান স্টার্ক। পরের ওভারে টানা দুই বলে বিদায় করেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই ফেরেন রানের খাতা না খুলে।

এরপর মুমিনুল হককে ৯ রানে ফিরিয়ে দেন স্টার্ক। লিটন দাসও টিকতে পারেননি। মাত্র ৫ বল খেলে ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

বাংলাদেশের সামনে তখন টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। সেই শঙ্কা কাটলেও নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড এড়াতে এখনও লড়াই করতে হচ্ছে সফরকারীদের।

মুশফিকুর রহিমও ব্যর্থ হয়েছেন। ৪২ বলে মাত্র ৫ রান করে ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২১ রানে ৬ উইকেট।

এরপর সপ্তম উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৪ রানের জুটিতে লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। মিরাজ ১১ ও হাসান ৮ রানে অপরাজিত আছেন।

একাদশে একটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম ওয়ানডে সিরিজে ৬ উইকেট নেওয়া এই বাঁহাতি পেসার জায়গা পেয়েছেন ইবাদত হোসেনের পরিবর্তে।

বাংলাদেশ একাদশ
সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ
ট্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস