পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ ‘চারাপিতা’ চাষ হচ্ছে কুমিল্লায়। এক কেজি চারাপিতা মরিচের দাম বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা বলে দাবি করা হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে এ মরিচের চাষ হয় বলে জানা গেছে। মরিচটি খুব বেশি ঝাল নয়। তবে এর রয়েছে অদ্ভুত সুন্দর ও মাদকতাময় সুগন্ধ, যা যেকোনো খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।
সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টির বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন কাজী শারমিন আক্তারসহ নগরীর কয়েকজন সৌখিন চাষি।
জানা যায়, আরবের রাজা-বাদশাহদের খাবারে এ মরিচ ব্যবহার করা হতো। মক্কার অনেক দামি হোটেলেও এটি ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। কাঁচা অবস্থায় মরিচটি সবুজ থাকে এবং পাকলে হলুদ বা উজ্জ্বল কমলা রং ধারণ করে। দেখতে গোলাকার এই মরিচের চাষ কুমিল্লায় প্রথম শুরু করেন কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম। ২০২২ সালে নগরীর ঠাকুরপাড়ার বাগানবাড়িতে তিনি এ মরিচের চাষ শুরু করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালিপট্টিতে একটি বাসার কোণে ছোট সবজির মাচা। এর পাশে ছয়টি বালতিতে লাগানো হয়েছে চারাপিতা মরিচের গাছ। বাগানি কাজী শারমিন আক্তার গাছে পানি দিচ্ছেন এবং পরিচর্যা করছেন। চারপাশের বাতাসে ভাসছে মরিচের অদ্ভুত মাদকতাময় ঘ্রাণ। তার মরিচগাছ ও মরিচ দেখতে সেখানে ভিড় করছেন অনেকেই।
কৃষক আহমেদ জামিল সেলিম বলেন, বাংলাদেশে সম্ভবত আমিই প্রথম এ মরিচের বীজ লাগাই। আমেরিকা থেকে বীজ সংগ্রহ করি। বস্তার মধ্যে মাটি ভরে সেখানে বীজ রোপণ করি। ৫০টি বীজের মধ্যে মাত্র তিনটি বীজ থেকে চারা গজায়। তিন বছর পর্যন্ত এ গাছ থেকে মরিচ পাওয়া যায়।
কৃষক জামিলের দাবি, চারাপিতা মরিচ পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মরিচ। প্রতি কেজি মরিচের দাম ২৬ হাজার ডলার। চার বছর আগে চাষ শুরু করলেও এ মরিচ চাষের চেষ্টা তিনি শুরু করেছিলেন প্রায় ১০ বছর আগে। তিনি বলেন, ‘এটির বাজার সৃষ্টি করা হলে দেশের কৃষকরা ভালো আয় করতে পারবেন।’
কাজী শারমিন আক্তার বলেন, আমি আমেরিকায় থাকা এক আত্মীয়ের মাধ্যমে পাকা মরিচ সংগ্রহ করেছি। সেখান থেকে ছয়টি চারা হয়েছে। একটি মরিচে ১৫ থেকে ২০টি বীজ হয়। আমার গাছে প্রচুর মরিচ ধরেছে। আমি প্রতিটি মরিচ ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি।
তিনি জানান, তার বোনও রানীর দিঘির পাড়ের বাসায় এ মরিচের চাষ করেছেন। চারাপিতা মরিচের বাজার সৃষ্টি করতে কৃষি বিভাগ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সঙ্গে দেখা করবেন বলেও জানান।
কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, বিশ্বের দামি মরিচ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষ হচ্ছে—এটি একটি আশাজাগানিয়া খবর। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণা করে দেখতে হবে কৃষক পর্যায়ে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষের সুযোগ রয়েছে কি না। পাশাপাশি এ মরিচের বাজার সৃষ্টি এবং রপ্তানির ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কুমিল্লা সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কুমিল্লায় প্রথম জামিল সাহেব এটি চাষ শুরু করেন। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এটিকে দুর্লভ মরিচ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ কত দামে এটি বিক্রি হয়েছে, তা জানা যায়নি। বাংলাদেশের আবহাওয়া এ মরিচ চাষের জন্য উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পেরুর যে মরিচের কথা বলা হচ্ছে, সেটি যদি একই জাতের হয়ে থাকে, তাহলে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা যায় কি না, তা দেখতে হবে। গবেষণার পর এটিকে মাঠপর্যায়ে দেওয়া হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস
























