হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে মহান আল্লাহ, রাসূলুল্লাহ সা: ও ইসলাম ধর্মের অবমাননায় সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার বিচার এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেয়াসহ ৯ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে হেফাজতে ইসলাম।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে সংগঠনের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের স্বাক্ষর করা একটি অভিনন্দনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অভিনন্দনপত্রে ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং দেশের দ্বীনি শিক্ষায় বাবুনগর মাদরাসার অবদানের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম খালেদা জিয়ার আলেম সমাজের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও অবদানের কথা স্মরণ করা হয়।
হেফাজতে ইসলামের ৯ দফা দাবি
১. মহান আল্লাহ, রাসূলুল্লাহ সা:, পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কোরআন ও সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে (বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক পদে) কওমি মাদরাসার ডিগ্রি উল্লেখ নিশ্চিত করা।
৫. প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং ‘হিজবুত তাওহিদ’ সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশী-বিদেশী মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. বিগত সরকারের আমলে আলেমদের বিরুদ্ধে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে তাদের রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।
৯. ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেয়া।ভ্রমণ গাইড
অভিনন্দনপত্রের শেষে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ‘দ্বীন ও রাষ্ট্রের মেলবন্ধনের অনন্য স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং দেশের কল্যাণ ও অগ্রযাত্রায় তার সাফল্য কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস






















